বাগেরহাটে এক নারী (৩৫) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্বজনরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন ওই নারী। তিনি জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।
রোববার গভীর রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের বড় বাঁশবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান ও মহিলা পরিষদ হাসপাতালে ভর্তি ওই নারীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ওই নারী হাসপাতালে বসে সাংবাদিকদের বলেন, রাত এগারোটার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বেরোলে আগে ওত পেতে থাকা একজন তার মুখ চেপে ধরে। এ সময় তার হাত ছাড়াতে গেলে সে আমার হাতে কামড়ে দেয়। পরে তার সঙ্গে থাকা আরেকজন গামছা দিয়ে মুখ ও ওড়না দিয়ে দুই হাত বেঁধে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। তারা আমাকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। এই নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি আমার মায়ের সৎ বোনের ছেলে। তিনি আমার সম্পর্কে মামা হন। আমাকে নানা বাড়ির সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য সাইফুল ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে আমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে চলে যায়। পরে আমার চিৎকারে শুনে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা আমার মা এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্বামী আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে আমি আমার পাঁচ বয়সী মেয়েকে নিয়ে নানা বাড়িতে বসবাস করে আসছি। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. জিনিয়া ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, নির্যাতনের শিকার এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই নারী এখন সুস্থ রয়েছেন। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
বাগেরহাট মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উন্নয়নকর্মী রিজিয়া পারভীন বলেন, নারীর ওপর অমানুষিক নির্যাতনের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে খোঁজখবর নিয়েছি। এই ঘটনার জন্য আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা শুনে হাসপাতালে এসে ভিকটিমের খোঁজ-খবর নিয়েছি। তার সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ভিকটিম এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।
