সদরসহ ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় নির্মাণ শেষ হয়েছে অনেক আগে। হস্তান্তরও করা হয়েছে। কিন্তু এখনো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সগুলো। দুই একটি নামমাত্র চালু থাকলেও অধিকাংশ ভবনই তালাবদ্ধ পড়ে আছে মাসের পর মাস। এতে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে শৈলকুপা উপজেলা শহরের হল বাজার এলাকায় নির্মাণ করা হয় তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ভবনটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২০ সালে ভবনটি নির্মাণ শেষে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এটি এখনো তালাবদ্ধ এবং বরাদ্দ দেওয়া হয়নি নিচতলার দোকানগুলোও। বন্ধ থাকায় সেখানে যেতে পারেন না উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা।
একই দশা ঝিনাইদহ জেলা শহরসহ হরিনাকু-ু, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সগুলোর। নিচ ও দ্বিতীয় তলায় থাকা দোকানগুলোর অনেকগুলো এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। দোকান ভাড়া থেকে অর্জিত আয় দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা ও অফিসের দৈনন্দিন আয় মেটানোর কথা থাকলেও সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সেই সঙ্গে সেখানে গিয়ে সময় কাটাতেও পারছেন না জাতির বীর সন্তানরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায় ছয়টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত কমিটি না থাকায় ভবনগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। দ্রুত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত কমিটির হাতে ভবনগুলো বুঝিয়ে দিলেই বাস্তবায়িত হবে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সিদ্দিক আহম্মেদ বলেন, প্রয়োজন নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। তাহলেই অনেক সমাধান হয়ে যাবে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সগুলোর তত্ত্বাবধান করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
