গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার সাইদুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি পলাতক নান্নু শেখ নূরনবী (৩৭)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় র্যাব-৪ এর একটি দল ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, গত ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় জয়দেবপুর থানাধীন দেওয়ানবাড়ীর ছায়াতল মার্কেটের পাশে ধানের জমিতে একটি গলাকাটা অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা, স্থানীয় থানা-পুলিশ ও পরিবারের লোকজনের সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অজ্ঞাতনামা লাশটি মো. সাইদুল ইসলাম (৩৮) এর।
নিহত সাইদুল ইসলাম জয়দেবপুর থানাধীন কোনাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি কোম্পানিতে বাবুর্চি পদে চাকরি করতেন এবং উক্ত কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করার পাশাপাশি ফ্যাক্টরির সামনে অস্থায়ী দোকান দিয়ে গেঞ্জি, প্যান্ট ও লুঙ্গি বিক্রি করতেন।
ভিকটিম বিদেশে যাওয়ার জন্য ঘটনার এক মাস পূর্বে চাকরি ছেড়ে দেয় এবং সেই সঙ্গে তার অস্থায়ী কাপড়ের দোকানও বিক্রি করে দেন।
গ্রেপ্তার আসামি নান্নু শেখ ভিকটিমের সঙ্গে একই অফিসে চাকরি করতেন এবং সেই সুবাদে গ্রেপ্তার আসামি ভিকটিমের কাছে স্টাম্পের মাধ্যমে স্বাক্ষর করে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা ধার নেন।
ভিকটিম পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামি নান্নু শেখ তাকে বিভিন্নভাবে কালক্ষেপণ করতে থাকে।
দুই দিন পর রাত ৮টায় জয়দেবপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় পারস্পরিক কথাবার্তার একপর্যায়ে নান্নু একটি মোটরসাইকেলযোগে এসে পাওনা টাকা দেবে বলে ভিকটিমকে তার মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান।
এরপর থেকেই সাইদুল ইসলামের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পাওনা টাকা পরিশোধ না করে আসামি রাতের অন্ধকারে ধানক্ষেতে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গাজীপুর জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামি নান্নু শেখ পলাতক ছিলেন। তিনি আত্মগোপনের জন্য বিভিন্ন সময় নিজের নাম ও ঠিকানা গোপন করে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করতেন।
আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, সে উক্ত ঘটনা ছাড়াও আরও বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, জমি দখল এর মতো ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
