রৌমারীতে সড়কের ঝাঁকুনিতে ভ্যানেই প্রসূতির সন্তান প্রসব!

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১০:০৮ পিএম

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় হাসপাতালে নেয়ার সময় ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের খানাখন্দে সৃষ্ট ঝাঁকুনিতে ভ্যানেই সন্তান প্রসব করেছেন এক প্রসূতি।

শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জামালপুর (নন্দীবাজার)-ধানুয়া কামালপুর-রৌমারী-দাঁতভাঙ্গা সড়কের কুড়িগ্রাম অংশের রৌমারী শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কটির সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ থাকলেও নজরদারি নেই কারও। ফলে খানাখন্দে ভরা মহাসড়কটি বৃষ্টি হলে পানি জমে ও কাদায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের রৌমারী উত্তরপাড়া গ্রামের ফরিজল হকের স্ত্রী প্রসূতি শেফালী খাতুনের (২৮) শনিবার রাতে প্রসব বেদনা ওঠে। স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্যানে করে রওনা হন। খানাখন্দে ভরা সড়কে ঝাঁকুনিতে তিনি ভ্যানেই এক মেয়ে শিশুর জন্ম দেন।

শেফালী খাতুনের শ্বশুর আজিমুদ্দিন জানান, প্রসব ব্যথা উঠলে শেফালীকে অটো ভ্যানে করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়। শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে সড়কের খানাখন্দ থাকায় ভ্যানে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি হচ্ছিল। একপর্যায়ে ভ্যানেই আমার নাতির জন্ম হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রের সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও কারও নজর নেই। সড়কটি ভালো থাকলে আজ আমার নাতির জন্ম সড়কে হতো না। আমার ছেলের বউ অসুস্থ।

রৌমারী উপজেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সেলিম মিয়া বলেন, ২০১৮ সালে ৩১.৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য সরকার ৩৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও জনগণ এখনো এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। বরং দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে থানা মোড় পর্যন্ত এই সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। বেহাল এ সড়কে গাড়ি চলাতো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই মুশকিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে একাধিকবার আনলেও কোনো সমাধান হয়নি।

সড়কটির পাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা আর পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। আবার বৃষ্টি না হলে ধুলাবালিতে ভরে যায় পুরো এলাকা। যানবাহন থেকে ছিঁটে আসা কাদা ও ধুলাময়লায় দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। এতে অনেক ক্ষতি হয়।

অটোভ্যান চালক আব্দুল খালেক বলেন, এ রাস্তায় চালাবার গেলেই প্রত্যেক দিন গাড়ি নষ্ট হয়। দিনে যা আয় হয়, গাড়ি হারতেই (মেরামত) তা শ্যাষ হয়। আমরা গরিব মানুষ। রাস্তা ভালো না। বাঁচুম কিবা কইরা।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও, ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, রাস্তার মাঝে সন্তান প্রসবের বিষয়টি জেনেছি। এতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, সড়কের বেহাল দশার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে জানানো হয়েছে। এছাড়াও কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলীকেও অনেকবার বলা হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, মাটি না পাওয়ার কারণে রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের (আগস্ট) ১৫ তারিখ থেকে কাজ শুরু করবেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত