রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা নারী চিকিৎসকের সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল বলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক নার্গিস আক্তার। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নারী চিকিৎসকের থুঁতনি, ঠোঁট, গলায় সাড়ে ৮ ইঞ্চি, বাঁ কাঁধে দেড় ইঞ্চি, দুই বৃদ্ধাঙ্গুলে, বুকের মাঝখানে, পেটে ৬টি কাটা জখম রয়েছে। এছাড়া তার পিঠ, বাঁ পায়ে হাঁটুর ওপর ও নিচে ছেঁড়া-কাটার দাগ আছে।
বুধবার গভীর রাতে পান্থপথের ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামের হোটেলের চতুর্থ তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষ থেকে জান্নাতুল নাইম সিদ্দিকার (২৭) নামের ওই চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি তার বন্ধু রেজার সঙ্গে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে রেজাকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রাজধানীর মগবাজার কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য এমবিবিএস করেছেন জান্নাতুল। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি বিষয়ে একটি কোর্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। তার বাবা মো. শফিকুল আলম একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক। গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ি। তারা বর্তমানে রাজারবাগ ২ নম্বর মোমেনবাগ দোলনচাঁপা ভবনে বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
কলাবাগান থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রেজাউল করিম রেজা ও চিকিৎসক জান্নাতুল হোটেলে কক্ষ বুকিং করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জান্নাতুলকে হত্যার পর রেজাউল পালিয়ে যান।
শফিকুল আলম জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে তার মেয়ে ক্লাসের কথা বলে বের হন। সকাল ১০টার দিকে তার বাসায় ফেরার কথা ছিল। মেয়ে বাসায় না আসায় তিনি বেলা ১১টার দিকে কল দেন। কয়েকবার কল করার পর ফোনটি বন্ধ পান। এরপর থেকে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে খবর পেয়ে ওই হোটেলে গিয়ে মেয়ের লাশ দেখতে পান।
তিনি জানান, তার মেয়ে একদিন রেজা নামে এক ছেলের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন তার বন্ধু। তার বাড়ি কক্সবাজার। গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। এর বেশি কিছু আর জানেন না তিনি। এখন পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারছেন রেজার সঙ্গে মেয়ে ওই হোটেলে উঠেছিল।
