আফগানিস্তানের বেশিরভাগ কিশোরী মেয়ে সর্বশেষ ক্লাসরুমে পা রেখেছিল প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন তালেবানরা তাদের স্কুলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেবে এমন কোনো সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কেউ কেউ নারীদের একটি প্রজন্মকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিতা না করার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
কাবুলের একটি বাড়িতে সোদাবা নাজাহান্দ নামের এক নারীর হাতে প্রতিষ্ঠিত একটি অনানুষ্ঠানিক স্কুলে ক্লাসের জন্য সম্প্রতি কয়েক ডজন ছাত্রী জড়ো হয়েছিল। সোদাবা এবং তার বোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়া মেয়েদের ইংরেজি, বিজ্ঞান এবং গণিত শেখান।
নাজহান্দ বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ‘যখন তালেবানরা নারীদের কাছ থেকে শিক্ষার অধিকার এবং কাজের অধিকার কেড়ে নিল, তখন আমি এই মেয়েদের শিক্ষা দিয়ে তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চেয়েছি‘।
এক বছর আগে তালেবানরা দেশটির ক্ষমতা দখল করার পর এবং হাইস্কুলে মেয়েদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর থেকে চালু থাকা কয়েকটি আন্ডারগ্রাউন্ড স্কুলের মধ্যে তার স্কুলটি অন্যতম। তালেবানরা নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু মেয়েরা হাইস্কুলে যেতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মতো মেয়েরাও আর থাকবে না।
নাজহান্দ বলেন, ‘এই শূন্যস্থান পূরণ করার কোন উপায় নেই, এবং এই পরিস্থিতি খুবই দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক’।
তালেবানদের ক্ষমতা দখলের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব আফগানিস্তানকে অর্থসাহাজ্য দেওয়া বন্ধ করে দিলে দেশটির প্রায় সমগ্র জনসংখ্যা দারিদ্র্যের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়। শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞরা সবাই সতর্ক করেছেন, অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক পতন সহ দেশের একাধিক সংকট বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হচ্ছে। তালেবানরা নারীদের কাজ সীমিত করেছে, তাদের বাড়িতে থাকতে উৎসাহিত করেছে এবং শুধু চোখ ছাড়া তাদের পুরো মুখ ঢেকে রাখার জন্য পোশাক কোড জারি করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবানদের প্রতি সব মেয়েদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়ার আহবান জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তালেবানদের হাতে টাকা না দিয়ে আফগানিস্তানের শিক্ষকদের সরাসরি বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। কিন্তু তালেবানরা মেয়েদের জন্য হাইস্কুল খুলে দিচ্ছে না। অবশ্য তালেবানরা বলেছিল, ছেলে-মেয়েদের আলাদা ক্লাসরুম তৈরি হওয়ার পর তারা স্কুল খুলে দেবে। কিন্তু আলাদা ক্লাসরুম তৈরি করার কোনো পদক্ষেপ নিতেও দেখা যাচ্ছে না তাদের।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পরও তালেবানরা মেয়েদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এবার ক্ষমতায় আসার পর তারা নিজেদের আগের চেয়ে বদলে যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু তারা আসলে বদলায়নি।
