সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সরকার সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সালে প্রণয়ন করেছে। কিন্তু চার বছরেও প্রণয়ন হয়নি বিধিমালা। আইনের সঠিক বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন আবশ্যক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে সড়ক পরিবহন বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব বলেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের বাংলাদেশ পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরীসহ সাংবাদিক ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
সভার আলোচক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে বর্তমান যে আইন আছে তার অনেক দুর্বল দিক রয়েছে, যার ফলে এর সঠিক বাস্তবায়ন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। আবার যা বাস্তবায়ন করা যেত তাও সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এ সংক্রান্ত বিধিমালা এখনো পর্যন্ত প্রণয়ন হয়নি। বর্তমান সড়ক দুর্ঘটনার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইনের দুর্বল দিকগুলো নিরসন করা দরকার। আর এ মুহূর্তে বর্তমান আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন একান্ত জরুরি।
সভার সভাপতি ইকবাল মাসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে এখনো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি। আইনের দুর্বল দিক, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া, উপযুক্ত আইন প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের বাধা, সরকারের সদিচ্ছা ও আমাদের সচেতনতার অভাবের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না।
মূল বক্তা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান তার প্রবন্ধে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫টি রিস্ক ফ্যাক্টর, সড়ক দুর্ঘটনার আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপট, আইনের দুর্বল দিক ও বিধিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি গত কয়েক মাসের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। শুধু গত জুলাই মাসে দেশে ৬৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩৯ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪২ জন আহত হয়। অন্যদিকে এপ্রিল মাসে ৪২৭ টি দুর্ঘটনায় ৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়।
