জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১০:১৪ এএম

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে লড়াই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ইউক্রেনের লাভিভ শহরে এ বৈঠকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জাপোরিঝজিয়ায় যেকোনো সম্ভাব্য ক্ষতিসাধন হবে আত্মঘাতী।

গুতেরেসে উদ্বেগের সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করেন এরদোয়ান। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে আরেকটি চেরনোবিলের মতো বিপর্যয়ের আশঙ্কা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওই কেন্দ্রের কাছের এলাকাগুলোতে তীব্র লড়াই হচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। কিয়েভ ও মস্কো এ জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

ভলোদিমির জেলেনস্কি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ার ইচ্ছাকৃত হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন।

লাভিভের বৈঠকে তিন নেতাই ওই এলাকাকে বেসামরিক জোনে পরিণত করার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ওদিকে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়া উপত্যকায় বেলবেক সামরিক বিমানবন্দরের কাছে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

তবে সেবাস্তপোলের রাশিয়ার মনোনীত গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ বিস্ফোরণে কারও আহত হওয়া বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। যদিও বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রাশিয়ার নির্দেশনায় ইউক্রেনের যেসব স্টাফ এখনো পারমাণবিক কেন্দ্রটিতে কাজ করছেন, তারা ওই কেন্দ্র নিয়ে একটি বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, গত দু সপ্তাহে এটি ধারাবাহিকভাবে সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

টেলিগ্রামে একটি পোস্টে ইউক্রেনের একজন স্টাফ লিখেছেন যে ‘যা হচ্ছে তা ভয়ঙ্কর এবং কমন সেন্স ও নৈতিকতা বিরোধী।’

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের একজন সরকারি কর্মকর্তা টুইট করে জানিয়েছেন যে রাশিয়ার কর্মকর্তারা দ্রুত পারমাণবিক কেন্দ্র ত্যাগ করেছেন এবং অপ্রত্যাশিতভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ইউক্রেনের সেন্টার ফর ইনফরমেশন সিকিউরিটির টুইটে বলা হয়েছে, ‘ইউক্রেনের গোয়েন্দারা বিশ্বাস করেন যে রাশিয়া ওই কেন্দ্র নিয়ে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।’

এরদোয়ানের যে কথায় 'বিস্মিত' জেলেনস্কি

এর আগে খবর বের হয়েছিল যে এরদোয়ান জেলেনস্কির সাথে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারেন।

তবে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, তার বিশ্বাস ‘আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হবে।’

জেলেনস্কি অবশ্য বলেছেন যে মস্কো শান্তির জন্য প্রস্তুত এরদোয়ানের কাছে এটি শুনে তিনি ‘খুবই বিস্মিত’।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতি কোন বিশ্বাস নেই। রাশিয়াকে দ্রুত তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

তবে বৈঠকে নেতারা তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় খাদ্যশস্য নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, সেটি সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত