দিনাজপুর সরকারি কলেজে মাস্টার্সের ভাইভায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ০২:৪৩ পিএম

দিনাজপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সের ভাইভার নাম করে ১ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ভাইভার সময় রশিদ মূলে ৭৫ টাকা থাকলেও রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৪৫০ টাকা করে। এসব টাকা নেওয়া হয়েছে বিনা রশিদে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই বিভাগের প্রধান।

অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা জানালেন কলেজের অধ্যক্ষ।

কলেজ একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান, গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ভাইভা গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন ১ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ভাইভা গ্রহণের আগে রশিদ মূলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছে ৭৫ টাকা হিসেবে গ্রহণের নিয়ম রয়েছে। তবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৭৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যা ১ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত হিসেবে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৫ টাকা।

এছাড়াও ২০১৮ সালের প্রিলি টু মার্কস পরীক্ষায় ২২২ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকার স্থলে ৪০০ টাকা করে আদায় করা হয়। যার অতিরিক্ত টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা। পরবর্তীতে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেই টাকা ফেরত পাননি।

এসব অভিযোগের তীর যাচ্ছে বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. সাইফুল ইসলামের দিকে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিভাগীয় প্রধানের নির্দেশে বিনা রশিদে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী আসাদ ইসলাম, মাহফুজা আক্তার রুম্পা, আবুল হোসেন, সুমি পারভীন, শাহ ইকবাল, রুবেল ইসলাম জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা রয়েছে মাস্টার্সে ভাইভা গ্রহণের সময় রশিদ মূলে ৭৫ টাকা হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৩ ধাপে মোট ৪৫০ টাকা করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে। এবার ১ হাজার ১৪৫ জন ভাইভা দিয়েছে।

বিভাগীয় প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিভাগে কেউ অতিরিক্ত টাকা নিলে সে ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। ইতিপূর্বে আমার বিভাগে কিছু টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছিল। আমি পরে শিক্ষার্থীদের ডেকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছি।

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমি ইতিপূর্বে প্রত্যেকটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের জানিয়ে দিয়েছি যে, কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এমন কোনো অভিযোগ আমি পাই নাই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত