বাঁশ বেঁধে ৩ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ চা শ্রমিকদের

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২, ০৭:৩৭ পিএম

৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে ধর্মঘটের ১২তম দিনে শ্রীমঙ্গলে আঞ্চলিক মহাসড়কে বাশ বেঁধে তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন চা শ্রমিকরা।

বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ৩টায় থেকে উপজেলার সাতগাঁও চা বাগানের কারখানার সামনে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নেন সাতগাঁও, দিনারপুর, মির্জাপুর, বৈলাছড়া, বৌলাশী, ক্লোনেল, সাইফ, ইছামতি, মাকড়িছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা। এ সময় সহস্রাধিক চা শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সড়ক বন্ধ করে রাখে। তাতে রাস্তার দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা যানজটের সৃষ্টি হয়। 

এদিকে, ধর্মঘটের ১২তম দিনে শ্রীমঙ্গলের ৩৯ চা বাগানে কাজ বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা। সকালে জেরিন চা বাগানে কাজ শুরু হলেও পরে শ্রমিকরা আবার কাজ বন্ধ করে দেয়।
 
দুপুর ১ টার দিকে জেলার সাতগাঁও চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, চা শ্রমিকরা বাগানের নাটমন্দিরে বসে বিক্ষোভ করছেন, নানান ধরনের স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাদের। ৩০০ টাকা মজুরি নির্ধারন করার জন্য তারা দাবি জানিয়েছেন।

সাতগাঁও চা বাগানের ইউপি সদস্য শান্তনা বাড়াইক দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'আমরা যে আন্দোলন করছি ১৬ দিন যাবৎ সেটা আমরা পেটের দায়ে করছি। ১২০ টাকায় খাওয়া দাওয়া লেখা পড়া কিছুই হয় না। বিভিন্ন জন আমাদের এসে বলে, প্রধানমন্ত্রী নাকি আমাদের কাজ করতে বলেছেন। তিনি নাকি বিদেশ থেকে ফিরে আমাদের সাথে কথা বলবেন। আমরা ডিজিটাল দেশে এসে সরকারের প্রতিনিধি থেকে মিথ্যা কথা শুনতে হচ্ছে। আমরা টেলিভিশনে দেখছি প্রধানমন্ত্রী দেশে এসেছেন। তাহলে কেন আমাদের মিথ্যা বলা হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনে কাজে ফিরব। তিনি একটা ঘোষণা দিলেই শ্রমিকরা কাজে ফিরবে।'

সাতগাঁও চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি কাজল কালিন্দী বলেন, 'আমরা এখনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। আমাদের দাবিটা বাগান মালিকরা মেনে নিলে আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাবো। চা শ্রমিকরা দীর্ঘ ১৬ দিন ধরে খেয়ে না খেয়ে আন্দোলন করছি আমাদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য। আমাদের ১২০ টাকার মজুরিতে কিছুই হয় না। বাইরে যে রেশন, চিকিৎসা, বাসস্থান বাগান কর্তৃপক্ষ দেয়, সেটা পর্যাপ্ত নয়। সেখানে অনেক ফাঁকি আছে। আমরা মজুরির বাইরে এসব ভালোভাবে পাই না। দিন দিন জিনিসের দাম বাড়ে। আমাদের মজুরি বাড়বে না কেন? চা শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে চেয়ে আছি। তিনিই পারবেন এই সমস্যা সমাধান করতে।'

এদিকে ধর্মঘটের ১১তম দিনে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বিভিন্ন চা বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ করার অনুরোধ জানান। তাদের অনুরোধে গতকাল ভাড়াউড়া চা বাগান, জেরিন চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছিল।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, 'গতদিন ডিসি অফিসে বলেছিলাম আমাদের একদিন সময় দেন আমরা সাধারণ শ্রমিকদের এটা বোঝাই কিন্তু তারা আমাদের সময় দেননি। সাধারণ শ্রমিকরা এটা মেনে নিতে পারছেন না, আমি সবার সাথে কথা বলে আজ একটা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত জানাব।'

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে গত ৯ আগস্ট থেকে চার দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি ও পরে ১৩ আগস্ট থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছে চা শ্রমিকরা। প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও সেটা মানছেন না সাধারণ শ্রমিকেরা। বাগানে বাগানে ঘুরে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যাক্তিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত