গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটে ঝিনাইদহ বিসিকে শিল্প গড়ে উঠছে না

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ১১:২০ পিএম

নানা সংকটে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না ঝিনাইদহ বিসিক শিল্প নগরীতে। একদিকে নতুন প্লট বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা আসতে পারছে না। অন্যদিকে যারা বরাদ্দ পেয়েছেন তারাও গ্যাস সংযোগ না থাকা ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করতে পারছেন না। কেউ কেউ বিকল্প পদ্ধতিতে কার্যক্রম চালালেও উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতসব সমস্যায় ঝিনাইদহ বিসিক মূলত খুঁড়িয়ে চলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিসিকে গ্যাস সংযোগ স্থাপনের দাবি জানানোর পাশাপাশি শিল্প নগরীকে সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।

বিসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে শহরের ধানহাড়িয়ায় ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের পাশে প্রায় ১৬ একর জমিতে গড়ে তোলা হয় ঝিনাইদহ বিসিক শিল্পনগরী। সহজ যোগাযোগমাধ্যম, শ্রমিকের সহজলভ্যতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় শিল্প-কারখানার অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। শিল্প নগরীর মোট ১০১টি প্লটের মধ্যে সবই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে মাত্র ৪৬টি প্লটে। বাকিগুলো খালি পড়ে আছে। সেগুলো কারও নামে বরাদ্দ থাকায় নতুন উদ্যোক্তারাও সুযোগ পাচ্ছে না।

বিসিক শিল্পমালিকরা বলছেন, হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাড়তি উৎপাদন খরচের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন চালিয়ে গেলেও গ্যাসের সংযোগ চালু না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যে কারণে বরাদ্দকৃত প্লটগুলো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে গোডাউন হিসেবে। বিসিকের কয়েক শ গজের মধ্যে গ্যাস কোম্পানির ডিপো থাকলেও সংযোগ দিতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে হতাশ ব্যবসায়ীরা।

ঝিনাইদহ বিসিক শিল্পমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় শিল্প-কলকারখানা যারা গড়ে তুলেছেন তাদের উৎপাদনে যাওয়া খুব ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে। অতিসত্বর গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।’

নারী উদ্যোক্তা জিন্নাত আরা বিন মুক্তি বলেন, ‘শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠলে যেকোনো এলাকাই উন্নত হয়। মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। বিশেষ করে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের খুব প্রয়োজন। ঝিনাইদহ বিসিক শিল্প নগরীতে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে নারীদের জন্য খুবই ভালো হয়।’

ঝিনাইদহ বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক সেলিনা রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এখানে বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে যায়। আর কাছেই গ্যাসের ডিপো থাকলেও কাজ হচ্ছে না। গ্যাস কোম্পানির বেঁধে দেওয়া অতিরিক্ত খরচের কারণে সংযোগ নিতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। তবে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি শিগগির সমস্যার সমাধান হবে।’

বিসিক সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিসিকের সম্প্রসারণের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে সকল প্রকার কাগজপত্র পাঠিয়েছি। এরপর সেখান থেকে একটি টিম বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শন করেছেন এবং সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত