ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়নি: তাপস

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ০৭:৩৭ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘোষিত সময়সূচির বাইরে যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও ব্যাবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে যথাযথ যৌক্তিকতা সহকারে করপোরেশনের কাছ থেকে পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।

মঙ্গলবার বিকালে নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় পরিষদের ষোড়শ করপোরেশন সভার সূচনা বক্তব্যে মেয়র শেখ তাপস এ কথা বলেন।     

মেয়র শেখ তাপস বলেন, ‘আমরা ঢাকা শহরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি সময়সূচি উপস্থাপন করেছি এবং আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এটা কার্যকর করতে চাই। সেখানে দোকান-পাট, বিপণি বিতান, কাঁচা বাজার, রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও খাবার সরবরাহ, চিত্ত-বিনোদনসহ প্রেক্ষাগৃহের জন্য সমসয়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওষুধের দোকানগুলোর জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাড়া-মহল্লার ওষুধের দোকানের জন্য আমরা রাত ১২টা পর্যন্ত সময় দিয়েছি এবং হাসপাতালের সঙ্গে যে ওষুধের দোকানগুলো রয়েছে; সেগুলোকে রাত ২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও ব্যাবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়, তাহলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। সেখানে তাদের তার প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রম কেন অত্যাবশ্যকীয়, সেটা যথাযথ যুক্তি প্রদর্শন করতে হবে। আমরা সেটা বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনিয়তা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রমকে বর্ধিত সময় দেব। কিন্তু ঢাকা শহরকে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচির মধ্যে আনতেই হবে।’

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়ে বিচ্ছিন্নভাবে নানা মাধ্যমে আলোচনা হলেও করপোরেশন এখনো কোনো পক্ষ বা ব্যক্তি থেকে কোনো আবেদন পায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘোষিত গণবিজ্ঞপ্তির সময়সূচি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। শুধু হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানগুলো খোলা রাখার বিষয়ে বিভিন্নভাবে বলা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অংশীজন যারা আছেন, তারা কিন্তু আমাদের কাছে কোনো লিখিত আবেদন করেননি।’

তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির পরিচালক এবং মিটফোর্ডের আকমল খান রোডের আলিম-লাম-মিম ফার্মার স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন রনি রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওষুধের দোকানে সময় বেঁধে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দোকানিরা যে ইচ্ছে করে খোলা রাখে তা নয়। এটা নির্ভর করে ওষুধের চাহিদা ও মালিকের ইচ্ছার ওপর। সব দোকান যে ইচ্ছে করে খোলা রাখবে তা-ও না।

সমিতির এ নেতা আরো বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় যেহেতু বলে ফেলেছেন, ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে, তাই আমাদের আর কিছু করার নেই। আমরা যতক্ষণ ইচ্ছে দোকান খোলা রাখব’।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক জাকির হোসেন রনি বলেন, আমরা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলি। অবশ্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নেবে। আমাদের দাবি হচ্ছে, এই জায়গাটা সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার করা উচিত। দোকান খোলা রাখার বিষয়টি ওষুধের দোকানিদের জন্য ঐচ্ছিক। তাদের ওপর কোনো কিছু চাপানোরও কিছু নেই। আবার ছাড় দেওয়ারও দরকার নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত