বিশ্বের অর্ধেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ১১:১০ পিএম

বিশ্বের অর্ধেক স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে নেই সাধারণ পরিচ্ছন্নতা সুবিধা। আর এতে ৪০০ কোটির বেশি মানুষ সংক্রমণের অতিঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের এক যৌথ প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশ্নবিদ্ধ সেবাকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ পানি-সাবান অথবা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও নেই। ওই হাসপাতালগুলোর বাথরুমে সাবানও থাকে না।

যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় ৩৮৫ কোটি মানুষ ওই স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে সেবাগ্রহণের জন্য যায়। এদের মধ্যে ৬৯ কোটি মানুষ আছে যারা ন্যূনতম কোনো সেবাই পায় না ওই কেন্দ্রগুলোতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা মারিয়া নেইরা এএফপিকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা, সুবিধা ও অন্য বিষয়গুলো নিয়ে কোনো আলোচনাই হতে পারে না। মহামারী থেকে মুক্তি পেতে এ অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। আর এ সমস্যার সমাধান স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা ছাড়া সম্ভব নয়। নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্ন পয়ঃব্যবস্থা এবং মেডিকেল বর্জ্যে ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।’

৪০টি দেশের ওপর জরিপ করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ। রিপোর্ট বলছে, ওই ৪০টি দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। দেশগুলোর স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রগুলোর ৬৮ শতাংশই দুর্বল এবং ৬৫ শতাংশের হাত ধোয়ার মতো ব্যবস্থাও নেই। বৈশ্বিকভাবে ৯ শতাংশ স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সঠিকভাবে রাখা হয়েছে। ইউনিসেফের কর্মকর্তা কেলি অ্যান এএফপিকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা দাতারাই যদি পরিচ্ছন্নতা উপাদানের সরবরাহ না পায়, তাহলে সেবাগ্রহীতারাও পর্যাপ্ত সেবা পাবে না। পরিচ্ছন্নতার উপকরণ ছাড়া হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো স্রেফ সাধারণ মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদ। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মা, নবজাতক ও শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ওই হাসপাতালগুলো।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ৫৩ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পানির বন্দোবস্ত আছে। আর বৈশ্বিক পর্যায়ে শহরাঞ্চলের ৩ শতাংশ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১১ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো পানির ব্যবস্থা নেই। করোনা মহামারীর সময়ে বিশ্বে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যসেবা সংকটের বিষয়টি মানুষের সামনে উঠে আসে। জনগণের আয়করের টাকা নিয়মিত সরকারগুলো গ্রহণ করলেও, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই নগণ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত