চা শ্রমিক গীতা-মনির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও কাঁদলেন

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১০ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের নারী চা শ্রমিক গীতা পাইনকা ও সোনামনি রাজবংশীর দুঃখের কথা শুনে কেঁদে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে কাঁদলেন চা শ্রমিকরাও।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভিডিও কনফারেন্সে চা শ্রমিক গীতা পাইনকা তার বক্তব্যের শুরুতেই চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান। তিনি মজুরি বৃদ্ধি করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান।

এ সময় অশ্রুসিক্ত নয়নে গীতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমরা সবসময় আপনার কথা ভেবে এসেছি এবং ভেবে যাব। আমরা জানি, আপনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতা নিয়ে আমরা বেঁচে আছি। আমরা চাই আপনার বাবার মতো আপনিও কোনোদিন আমাদের কাছ থেকে সরে যাবেন না। আপনি আমাদের কাছে চিরজীবী থাকবেন। আমরা চা শ্রমিকরা যে কষ্টে আছি সেটা আপনি দেখেছেন, এ জন্য আপনাকে কোটি কোটি ধন্যবাদ। আপনাকে আমাদের কমলগঞ্জ উপজেলায় এক কাপ চায়ের দাওয়াত দিচ্ছি। আপনি আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন। আপনাকে আমরা দেখছি, এটা যে আমাদের জন্য কত আনন্দের সেটা মুখের ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

তখন প্রধানমন্ত্রী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, ‘আপনারা যেটা করেছেন সেটা বাঁচার তাগিদে করেছেন। আমি সেটা বুঝি। এজন্য আগে আমি মালিকদের সঙ্গে বসেছি, এখন আপনাদের সঙ্গে বসলাম।’

অপরদিকে, মাধবপুর চা বাগানের নারী শ্রমিক সোনামনি রাজবংশী বলেন, ‘আমি আপনার ওপর খুশি আছি। আগে ১২০ টাকা পেতাম এখন ১৭০ টাকা পাই, মা। আমাদের কোনো অভাব নাই। আপনি সব করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের একটা সুবিধা করিয়া দিবেন যাতে পেট ভরিয়া খেতে পারি। এ সময় বাগানের স্কুলগুলো সরকারি করার দাবি জানান সোনামনি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনামনির উত্তরে বলেন, ‘আমার বাবা আপনাদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন। আমি সবাইকে ঘর করে দেব। ছেলেমেয়ে নিয়ে যাতে ভালোভাবে থাকতে পারেন সেটা করে দেব।’

পরে প্রধানমন্ত্রী চা বাগানের ঐতিহাসিক ঝুমুর নাচ দেখেন এবং তার প্রশংসাও করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত