২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে অসন্তোষ এবং অনিয়মের অভিযোগ এনে স্মারকলিপি দিয়েছেন মেধাতালিকায় স্থান না পাওয়া শিক্ষার্থীরা।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। এরই ভিত্তিতে রবিবার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী দুপুর ১১টায় এবারের ভর্তি পরিক্ষার নেতৃত্বে থাকা রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) মিলিত হয় এবং উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। একই সময়ে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও স্মারকলিপি দেন ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ফলাফল প্রকাশের পর দেখি মেধাতালিকায় নাম নেই, অথচ ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। পরীক্ষা দেওয়ার পর আমরা অনেকেই পাঠ্যবইসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বই এর প্রশ্ন মিলিয়ে ৭০ এর বেশি পেয়ে ছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম মেধাতালিকায় স্থান পাব। কিন্তু মেধাতালিকা কিংবা অপেক্ষমাণ তালিকার কোনোটিতেই নাম আসেনি।
শেকৃবিতে দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা দাবি করেন, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এর ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে, পরীক্ষাটির উত্তরপত্র প্রকাশ করতে হবে, পরীক্ষার ফলাফল নির্ণয়ে কোনো ত্রুটি আছে কি-না সে বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট পেশ করতে হবে, বর্তমানে চলমান ভর্তিকার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হবে কিংবা সময় বাড়িয়ে দিতে হবে।
ছাত্রদের এই স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশীদ। স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি প্রদানকারী ৮ (আট) টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান)/ স্নাতক শ্রেণির ১০ সেপ্টেম্বর (শনিবার) অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল নিরীক্ষা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আগামী ২০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) এর মধ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ২০৪ নম্বর কক্ষে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ফটোকপি এবং নিরীক্ষা ফি বাবদ ১০০০ (এক হাজার) টাকা জমাদানসাপেক্ষে কৃষিগুচ্ছভর্তি পরীক্ষার সদস্যসচিব ও শেকৃবি রেজিস্ট্রার বরাবর সাদা কাগজে আবেদন করতে হবে। এবং নিরীক্ষার ফলাফল আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) এর মধ্যে আবেদনকারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
ফলাফলের সার্বিক বিষয় নিয়ে কৃষিগুচ্ছভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য ড মো শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, কৃষিগুচ্ছভর্তি পরীক্ষায় নিয়ে যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি বা মেরিট লিস্টে এবং ওয়েট লিস্টে আসতে পারেনি তাদের মধ্যে নানারকম প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আমার ধারণা কিভাবে নম্বর প্রদান করা হয় তা নিয়ে একটা সমস্যা (ভুল ধারণা) থাকতে পারে। আমরা কিন্তু জিপিএ এর ভিত্তিতে মার্কস দিইনি, আমরা এটা নির্দেশিকাতে বলে দিয়েছি। আমরা নম্বর দিয়েছি বোর্ড আমাদের যে নম্বর সরবরাহ করেছে এসএসসি এবং এইচএসসি সেইটাকে আমরা ২৫ এবং ২৫ এ কনভার্ট করেছি। বোর্ডের পরীক্ষায় ১২০০ নম্বরের মধ্যে কেউই কিন্তু ১২০০ পায়নি। ফলে ২৫ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এইচএসসি এবং এসএসসি উভয় ক্ষেত্রেই এটি সমান। আর আমরা এর সঙ্গে আমাদের পরীক্ষার যে রেজাল্ট সেটি যুক্ত করেছি। তারমানে ২৫ (এসএসসি) এবং ২৫ (এইচএসসি) এ যত পেয়েছে তার সঙ্গে আমাদের পরীক্ষায় যত নম্বর পেয়েছে তা যুক্ত করে পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছি। কারো যদি অনেক নম্বর থাকে এসএসসি, এইচএসসিতে সে ওখানে বেশি নম্বর পাবে এবং কম নম্বর পেয়েও চান্স পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি বুঝতে হবে সবাইকে।
এ সময় পুনঃনিরীক্ষণের ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, আর আমরা পুনঃনিরীক্ষার জন্যে একটি সার্কুলার দিয়েছি। ২০ তারিখ পর্যন্ত যাদের এই পুনঃনিরীক্ষণের ইচ্ছা রয়েছে তারা অ্যাপ্লাই করতে পারবে এবং আমরা ২৪ তারিখে এটার ফলাফল জানানোর জন্যে বলে দিয়েছি। আমার মনে হয়, এটা নিয়ে আর ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না আর এই বিষয়ে যে অ্যাটেনশন দিচ্ছি না এটা মোটেও ঠিক না। অ্যাটেনশন দিচ্ছি বলেই পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ দিচ্ছি।
