চট্টগ্রামের চন্দনাইশের আমানতছফা বদরুননেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতনভাতা পাচ্ছেন না। এতে কলেজের প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ ব্যাপারে শিক্ষকরা গত সোমবার এবং এর আগের দিন গত রবিবার স্থানীয় সাংসদ, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৯২ সালে এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম)। শুরুতে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠাতার বড় সন্তান অধ্যাপক ওমর ফারুক সানি আছেন সভাপতির দায়িত্বে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, ওমর ফারুক দায়িত্বকালীন বিনা কারণে শিক্ষক-কর্মচারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বেতনভাতা বন্ধ করে রাখেন।
শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, ২০২০ সাল থেকে কলেজের শিক্ষকরা মূল বেতনের ৬ শতাংশ পিএফ, ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা এবং ১০ শতাংশ বাড়িভাড়া বাবদ কলেজ থেকেই পেতেন। কিন্তু সভাপতি স্বেচ্ছাচারিতা করে বন্ধ করে দেন এসব ভাতা। এ ছাড়া গত আগস্ট মাসের বেতন বিলে সভাপতি স্বাক্ষর না করায় বেতনের সরকারি অংশ পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা। কলেজের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-কর্মচারীরা দুর্গাপূজার আগে টাকার অভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কোনো কোনো শিক্ষক-কর্মচারী পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সিরাজদ্দৌল্লা জানান, সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে দুই বছর ধরে দেন-দরবার করেও আমাদের বৈধ পাওনাগুলো আদায় করতে পারিনি। তিনি মনে করেন এ কলেজ তার বাবার। শিক্ষকদের তিনি মনে করেন তার বাড়ির কর্মচারী। বিনা কারণে সভাপতি সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুল আলম খোকা বলেন, শিক্ষকদের বেতন বন্ধের অভিযোগ পেয়েছি। এটা অমানবিক। বিষয়টির সমাধানের জন্য চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক হোসাইন আহমেদ আরিফ ইলাহী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আমানতছফা বদরুননেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিপ্রা সিকদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে আমানতছফা বদরুননেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ওমর ফারুক সানি বলেন, ঘটনাটি অসত্য। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ সমস্যা হয়েছে। অচিরেই এর সমাধান হবে।
