কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১২:৩৫ এএম

পবিত্র কোরআন। ঐশী গ্রন্থ। আল্লাহতায়ালার কিতাব। মানবজীবনের সংবিধান। যাতে সংশয়-সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আল্লাহতায়ালা বান্দার প্রতি রহমত প্রদানে ইরশাদ করেন, ‘আর যখন কোরআন মাজিদ পড়া হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষিত হয়।’ সুরা আরাফ : ২০৪

এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা মুমিন বান্দার জন্য রহমত বর্ষণে কোরআন মাজিদের তেলাওয়াত শ্রবণকে উপলক্ষ বানিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, কোরআনে কারিম মুমিনদের জন্য রহমতস্বরূপ। তবে এ রহমত থেকে পরিপূর্ণ ফায়দা হাসিলে বান্দার জন্য কিছু শর্ত ও আদব রক্ষা করা জরুরি। বান্দার প্রতি ওই আদবের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েই আল্লাহতায়ালা বলেন, যখন কোরআন মাজিদ পড়া হয় তখন চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে কোরআনে কারিম তেলাওয়াত শোনো। যখনই মনোযোগের সঙ্গে কোরআন মাজিদের তেলাওয়াত শুনবে তখনই বান্দার প্রতি রহমত বর্ষিত হবে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে কুরতুবিতে এসেছে, কোরআন তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনার আদেশ দিয়ে আল্লাহতায়ালা মানুষকে তার বাণী অনুযায়ী পরিপূর্ণ আমলের প্রতি সচেষ্ট হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘যাতে তোমাদের প্রতি রহমত করা হয়।’ এ কথা থেকে বোঝা যায়, কোরআন মাজিদ রহমতস্বরূপ হওয়ার জন্য শর্ত হলো তার আদব রক্ষা করা। সুতরাং যারা এর পরিপন্থী কাজ করবে, তারা সে রহমত থেকে বঞ্চিত হবে এবং শাস্তির উপযোগী হবে।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মনোযোগ দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত শুনবে, তাকে কয়েক গুণ বেশি সওয়াব প্রদান করা হবে, আর যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করবে, তা (কোরআন) তার জন্য কেয়ামতের দিন আলো হয়ে উদ্ভাসিত হবে।’ মুসনাদে আহমদ

আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করার এবং কোরআন তেলাওয়াত মনোযোগের সঙ্গে শোনার তাওফিক দান করুন। কোরআন-হাদিসে ঘোষিত রহমত, অধিক সওয়াব লাভ এবং কোরআন মাজিদকে আলোকবর্তিকা হিসেবে পাওয়ার তাওফিক দান করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত