নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আদিবাসী নেতা সুব্রত সাংমা (৪৮) মারা গেছেন।
শনিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন দুর্গাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।
এই আদিবাসী নেতার মৃত্যুর খবরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ১টার দিকে দুর্গাপুর পৌরশহরের উৎরাইল বাজারে ট্রায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা আ.লীগে ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। মিছিলটি পৌরশহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।
সুব্রত সাংমা এবার কুল্লাগড়া ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। এর আগে তিনি এই ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও তিনি কুল্লাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত প্রমোদ মানকিনের ভাতিজা সুব্রত সাংমা।
নিহত সুব্রত সাংমার বোন কেয়া তজু জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের রাশিমনি বাজারে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আওয়ালের নেতৃত্বে তার ভাইয়ের ওপর হামলা চলে। এ ঘটনার পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
নিহতের বোন আরও জানান, ঘটনার পরদিন রাতে আমি বাদী হয়ে চেয়ারম্যানসহ তার ভাই শামিম আহমেদ, মো. বদিউজ্জামানসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ে করি। এরমধ্যে আসামিরা আদালত থেকে জামিনও পেয়ে গেছে।
দুর্গাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, সুব্রত সাংমার মৃত্যুর খবরে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তা নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছি।
