কক্সবাজারের পেকুয়ায় করোনার টিকাদানের স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানী ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মুজিবুর রহমান ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের মনগড়া তালিকা তৈরি করে প্রায় ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এদিকে আবাসিক মেডিকেল অফিসার মুজিবুর রহমান টাকা লোপাটের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার টিকাদানের জন্য পাঁচটি টিমের প্রতিটিতে তিনজন করে মোট ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। কিন্তু যে ১৫ জন কথিত স্বেচ্ছাসেবকের নামে বরাদ্দ আসে তাদের কাউকেই টিকাদান চলাকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। স্বেচ্ছাসেবকের ওই তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৫ জনের মধ্যে ৮ জনই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মুজিবুর রহমানের স্ত্রীর মালিকানাধীন আল-নূর হাসপাতালে কর্মরত নার্স, ওয়ার্ডবয় ও কর্মচারী। আর বাকি ৭ জনের মধ্যে একাধিকজন এনজিওতে কর্মরত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরীর জন্মস্থান চকরিয়ার সাহারবিল এলাকার বাবা-ছেলে মো. ওবাইদুল হাকিম ও শফিকুল হাকিম হাছনা। তালিকায় থাকা বাকিদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শফিকুল হাকিম হাছনা বলেন, তার বাবা ওবাইদুল হাকিম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরীর গাড়ির চালক। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তালিকায় নাম কীভাবে এলো জানতে চাইলে হাছনা বলেন, তার বাবা হয়তো নাম দিয়েছেন। তিনি পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে স্বীকার করলেও তার বাবা ওবাইদুল হাকিম কোনো টাকা পাননি বলে জানিয়েছেন। অথচ জনপ্রতি ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা করে পেয়েছেন মর্মে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিলে তাদের দুজনেরই স্বাক্ষর রয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা হাতানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমও মুজিবুর রহমান দাবি করেন, তার স্ত্রীর মালিকানাধীন আল-নূর হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আল-নূর হাসপাতালের দায়িত্ব ফেলে রেখে তারা কীভাবে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছিলেন জানতে চাইলে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও তাকে দোষারোপ করবেন। তাই এ নিয়ে প্রতিবেদন না করতে অনুরোধ জানান।
