প্রায় আট বছর আগে মিয়ানমার থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাংলাদেশে আসেন রোহিঙ্গা খাইরুল বশর। থাকতে শুরু করেন কক্সবাজারের টেকনাফের একটি ক্যাম্পে। অল্প শিক্ষিত খাইরুল গ্রাম্য চিকিৎসক সেজে ক্যাম্পে দিতে শুরু করেন চিকিৎসাসেবা। দ্রুতই তিনি পরিচিতি পান ক্যাম্পের ভেতর-বাইরে। পরিচিত হতে শুরু করেন স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে। তাদের একজনের সহায়তায় শুরু করেন ইয়াবা পাচার। নিজে রোহিঙ্গা হওয়ায় সহজেই মিয়ানমার গিয়ে ফিরতেন বিপুল ইয়াবা নিয়ে। এভাবে চলতে চলতে একসময় স্থানীয় সেই প্রভাবশালীদের সহায়তায় বাংলাদেশের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেন একটি। বিয়েও করেন ডেন্টালে ডিপ্লোমা করা এক বাংলাদেশি তরুণীকে। পরে কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে খোলেন দাঁতের চিকিৎসাকেন্দ্র। দাঁত সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকলেও নিজেই দেওয়া শুরু করেন চিকিৎসা।
হ্নীলা বাজারের পূর্বপাশে ‘রবি ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি চেম্বার খুলে বসেছেন খাইরুল। সেখানে বসেই মানুষের দাঁতের কথিত চিকিৎসা করে যাচ্ছেন তিনি। হয়ে উঠেছেন টেকনাফের অন্যতম বড় দন্ত চিকিৎসক! ভুলভাল চিকিৎসার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ নিয়ে কেউ এলে তাকে বলছেন, উন্নত চিকিৎসা লাগবে। আর কেউ তার প্রতিবাদ করলে বলছেন, তার হাত অনেক লম্বা, প্রশাসন তার কিছু করতে পারবে না।
অভিযোগ রয়েছে, তার কাছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে স্থানীয় কয়েকজন দাঁতের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। দুই মাসের মধ্যে দাঁত ভালো হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খাইরুল। কিন্তু চিকিৎসা শেষে কয়েক দিন ভালো লাগলেও ফের শুরু দাঁতের যন্ত্রণা। স্থানীয়রা জানান, খাইরুলকে যে প্রভাবশালী ইয়াবা পাচারে জড়িয়েছে তার সহায়তাই পেয়েছেন এনআইডি। আর এনআইডি পাওয়ার পর এলাকায় দাপুটে চলাচল শুরু করেছেন খাইরুল।
রোহিঙ্গা হয়ে কীভাবে ওই নেতার আস্থাভাজন হয়েছেন জানতে গেলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত ডাক্তার খাইরুল স্থানীয় ওই প্রভাবশালী নেতার জন্য মিয়ানমার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করতেন। খাইরুলের আনা মাদক বিক্রি করে ওই নেতা হঠাৎ কোটিপতি বনে যান। পরে ওই নেতা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
রোহিঙ্গা খাইরুলের এনআইডির বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বেদারুল ইসলাম বলেন, তিনি চট্টগ্রাম থেকে ভোটার হয়েছিলেন। পরে তদন্তে রোহিঙ্গা প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এনআইডি বাতিলের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত খাইরুল বশর সব বিষয় অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, নিজে কোনো চিকিৎসা করেন না, প্রেসক্রিপশনও লেখেন না। তার স্ত্রী ডিপ্লোমা করেছেন, তাই সবকিছু স্ত্রী-ই করেন। তিনি শুধু তাকে সহায়তা করেন। তবে দেশ রূপান্তরের হাতে তার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ছবি, ভিডিও আছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) ইরফানুল হক চৌধুরীর বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
