যবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া, সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২৩ এএম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার (১৬ অক্টোবর) যবিপ্রবির শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সালের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। উক্ত ঘটনার সংবাদ সংগ্রহকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা করে অর্ধশত ছাত্রলীগকর্মী। এসময় গুরুতর আহত হয় যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য শিহাব উদ্দিন সরকার। 

মারধরের সময় তারা শিহাবের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় শিহাবকে মারধর করে ছাত্রলীগকর্মী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান রহমান রাব্বি, রসায়ন বিভাগের ৩য় বর্ষের জুবায়ের, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রিড়া বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের বাহার, একই বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নুর আলম, ৪র্থ বর্ষের সৌমিক, স্নাতকোত্তরের উত্তম, ফাইনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের বেলাল হোসেন, অ্যাকাউন্ট এন্ড ইনফরমেশন বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আকিব ইবনে সাইদসহ অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী। 

জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কদম তলায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সালের ২ জন অনুসারী অস্ত্র নিয়ে সভাপতি সোহেল রানার অনুসারীদের ধাওয়া করে। এরপর কদমতলা থেকে তানভীর ফয়সালের অনুসারীরা শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে এসে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সভাপতি সোহলে রানার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা হলে প্রবেশ করলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

সাংবাদিককে মারধর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে যবিপ্রবির প্রক্টর ড. হাসান আল ইমরান বলেন, আমি হলের ভিতর সাংবাদিকের ওপর আক্রমণের বিষয় জানতে পেরেছি। হল প্রভোস্ট ইতিমধ্যে মিটিং করে হলের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করেছেন। আহত সাংবাদিককে দেখেছি ও চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠিনো হয়েছি। তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

এবিষয়ে শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. আশরাফুজ্জামান জাহিদ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসে মারামারি থামায়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে হলে তল্লাশি করা হয়েছে। এছাড়া এরই মধ্যে প্রভোস্ট বডি ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে মিটিং করেছে।

এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের কর্মীদের অর্ন্তকোন্দলে সংগঠিত ঘটনা এবং দায়িত্বরত সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। ক্যাম্পাসে কোনো অস্ত্রের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। খুব দ্রুতই কমিটি গঠন করে দোষীদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত