খুলনায় শনিবার বিএনপির গণসমাবেশ সামনে রেখে শুক্রবার রাতেই কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দলবেঁধে নেতাকর্মীরা আসছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা নগরের কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর ভিড় দেখা গেছে।
জানা গেছে, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে তাদের কেউ কেউ ট্রেনে করে খুলনায় এসেছেন। স্টেশনে নেমেই মিছিল করতে করতে বের হন তারা।
বিএনপির অভিযোগ, সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের অনেককে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয়া হয়েছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই নগরজুড়ে পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সারারাত পুলিশ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। আটক করা হয়েছে ৪৭ জনকে। শুক্রবারও পুলিশ অনেককে আটক করে নিয়ে গেছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, 'এ ধরনের কোনো আটক বা গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আমার জানা নেই। এমন কিছু হওয়ার কথা না।'
তবে শুক্রবার (২১ অক্টোবর) দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন থানায় অর্ধশত নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। পরে তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা সদর থানায় খন্দকার হাসিনুল ইসলাম নিক, মিজানুর রহমান বাবু, বেল্লাল হোসেন, জসমিউদ্দিন লাবু, শফিকুল ইসলাম, মিজান ও কবির ফরাজি, সোনাডাঙ্গা থানায় নজরুল ইসলাম, ডালিম, ডা. শাহ আলম, মাহমুদ আলম বাবু মোড়ল, জুলু, কাজী সেলিম, খালিশপুর থানায় মেহেদী, সামাদ বিশ্বাস, গোলাম মোস্তফা ভূট্টো, মো. হাসান, মোল্লা কওসার, দৌলতপুর থানায় হুমায়ুন কবির, রাসেলুজ্জামান।
এ ছাড়া রয়েছেন খানজাহান আলী থানায় জসীম ভূইয়া, মামুন ও উজ্জল এবং হরিণটানা থানায় কামাল, হেলাল ও হযরত আলী।
এ ছাড়া বাগেরহাট থেকে আগত চারজনকে খুলনা থানা পুলিশ এবং মোড়েলগঞ্জ বিএনপি নেতা খায়রুজ্জামান শিপনের বাসা থেকে ১৩ জনকে আটক করে বলে বিএনপি জানায়।
তাদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীবাহী একটি গাড়ি সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। যেখানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মুন্সি, কৃষক দল আহ্বায়ক মুকুল মেম্বারসহ ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, বিভিন্ন স্থানে ওয়ারেন্টের আসামি ধরা হচ্ছে।
