অসময়ে পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে গোয়ালন্দের ফসলি জমি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪৩ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা ও  সিত্রাংয়ের প্রভাবে কৃষিভিত্তিক ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও ঝড়ে নষ্ট হয়েছে পাকা আধা পাকা ধান ও শাকসবজির ক্ষেত।

গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীসহ খালে এক সপ্তাহের বেশি পানি বেড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, অন্যদিকে সোমবার থেকে শুরু হওয়া সিত্রাংয়ের কারণে বৃষ্টিতে অনেক আবাদি কৃষি জমি তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ কৃষক বিভিন্ন অঞ্চলে মাসকালাই, মুড়ি কাটা পেয়াঁজসহ শীতকালীন সবজির আবাদ করেছেন।

এর মধ্যে রোপনকৃত শাক-সবজি, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে ও কোথাও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে অন্তত এক হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, উপজেলার উজানচর, দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নে ৯৭১ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি, মাসকালাই ও মুড়ি কাটা পেয়াঁজ রোপন করা হয়েছে। অতি বৃষ্টি, অসময়ে বন্যার পানি আসায় ও সিত্রাংয়ের ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে নানা ধরনের শাক-সবজি ও মাসকালাই রয়েছে।

নদী তারবর্তী ও আশপাশের খালের পানি উপচে উজানচর, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নে বেশি কৃষক ক্ষতি হয়েছে। 

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ইদ্রিস মিয়া পাড়ার কৃষক নিকবার শেখ বলেন, তিন বিঘা জমিতে বেগুন, উচ্ছে, করলা ও শাক করেছিলাম। ৫০ হাজার টাকা খরচ করে শীতকালীন সবজি রোপন করেছি। দুই সপ্তাহ পর বেগুন তুলতে পারতাম। ভেবেছিলাম পানি সামান্য বাড়ছে। লোকজন নিয়ে ক্ষেতের পাশ দিয়ে মাটির বাঁধ দিয়েছিলাম। পরে দেখি পানি বাড়া বন্ধ হচ্ছে না। এই সময় পানি বাড়ায় আমাদের সব শেষ করে দিল।

উজানচর ইউপির বাহাদুরপুর এলাকার কৃষক শাহজাহান শেখ বলেন, বন্যার পানিতে নদী ভরে নতুন পাড়ার জমি তলিয়ে গেছে। প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে পেয়াঁজ, কপি, টমেটো, বেগুন ও লাল শাক রোপন করেছিলাম। হঠাৎ পানি বাড়ায় আর নতুন করে ঝড়ে অধিকাংশ জমি তলায় গেছে। কিছু শাক তুলে বিক্রি করতে পারছি। বেগুন, কপি পেয়াঁজ ক্ষেত সব শেষ। জমি শুকালে আবার নতুন করে লাগাতে হবে। এ রকম অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দৌলতদিয়া তোরাপ শেখের পাড়ার কৃষক রফিক মন্ডল বলেন, অনেক ফুলকপি, পাতা কপি, টমেটো আর মরিচের চারা দিয়েছি। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে সবজি রোপন করা যেত।    

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকন উজ্জামান বলেন, অতি বৃষ্টি আর অসময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের নিচু জমি তলিয়ো যাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এছাড়াও সিত্রাংয়ের কারণেও ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় এক হাজারের মতো কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরি করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত