সাভারের আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন তিন তলা ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন আরও এক নির্মাণ শ্রমিক। আহত ওই শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার বিকেলে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার ফজলুল হকের নির্মাণাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকের নাম আয়নাল হক (৩৩)। তিনি বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার কোনাগাতি গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে। এঘটনায় দগ্ধ শ্রমিকের নাম আনোয়ার (৩৮)। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। আনোয়ারের হাত-পাসহ শরীরের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানান চিকিৎসক।
পুলিশ জানায়, দেয়ালে প্লাস্টার করার সময় বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে দুই শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এদের মধ্যে আয়নাল তিনতলা থেকে নিচে পড়ে যান। আরেকজনের হাত ও পা পুড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাড়ির মালিক তাদের স্থানীয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়নালকে মৃত ঘোষণা করেন। বাড়িওয়ালার গাফিলতিতেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় পুলিশ।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা খন্দকার বলেন, বিকেলে ৯৯৯ এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, নির্মাণাধীন তৃতীয় তলা বাড়ির বাইরের অংশ মাচা বেঁধে পলেস্তারার কাজ করছিলেন দুই শ্রমিক। একপর্যায়ে তারা ভবন ঘেঁষে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়লে দুজনই স্পৃষ্ট হন। এদের মধ্যে আয়নাল নিচে পড়ে যান। এ সময় স্থানীয়রা দুজনকেই উদ্ধার করে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আয়নালকে মৃত ঘোষণা করেন। আনোয়ার হোসেনের হাত ও পা দগ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাড়িওয়ালা ফজলুল হক দায় এড়াতে পারেন না। তার গাফিলতিতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে নিলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতো না। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।
নিহতের মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ফজলুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
