দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনই কোনো কথা বলতে চাইছেন না সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, তিনি (খালেদা) নির্বাচনে দাঁড়ালে তখন আইনানুগভাবে খতিয়ে দেখা হবে, এখন আগাম বলার কিছু দেখছেন না।
খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে কি না- এ প্রশ্নে সিইসি বুধবার (২ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, 'এই বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর এখন দেব না। এটা যখন হবে দেখা যাবে। সব কিছু আইন অনুযায়ী হবে। এখন অ্যাডভান্স কোনো কথা বলতে পারব না।'
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজা হলে কারাজীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার সাজার রায় হয়। তবে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে এখন বাসায় রয়েছেন। আইন অনুযায়ী, যে কোনো ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেই সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। সাজা খেটে মুক্তি পাওয়ার পাঁচ বছর আগে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। দুই মামলায় ১০ বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন একাদশ সংসদ নির্বাচনেও ভোটে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তা শেষ পযন্ত টেকেনি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতারা আবারও আওয়াজ তুলেছেন, খালেদা জিয়া ভোটে অংশ নেবেন। তার আইনজীবীরা বলছেন, সাজার বিরুদ্ধে খালেদার আপিলে দণ্ড স্থগিত হলে খালেদা জিয়া ভোটে অংশ নিতে পারবেন। তাদের কথার প্রতিক্রিয়ায় গত ১০ অক্টোবর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ফৌজদারি দুই মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া আইন অনুসারে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
খালেদার আইনজীবীরা যা বলছেন, তা অবহিত নন বলে জানান সিইসি হাবিবুল আউয়াল।
তিনি বলেন, 'এই বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। যিনি নির্বাচনে দাঁড়াবেন। আপনি দাড়াঁন যে-ই দাঁড়ান, আমরা তার বিষয়টি আইনানুগভাবে পরীক্ষা করে দেখব। আমাদের আইনের কিছু কাঠামো আছে। কেউ ভোট করতে চাইলে ওই কাঠামোর মধ্যে করতে হবে।'
