এক বছরে ঝরে গেছে এসএসসি পাস ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩৮ পিএম

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় এক বছরে এসএসসি পাস করা প্রায় ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তারা চলতি বছরে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রের সংখ্যা বেশি।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই বোর্ডের অধীনে ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই চলতি ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কিন্তু গতকাল রবিবার থেকে শুরু হওয়া ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ১ হাজার ৮৮২ জন পরীক্ষার্থী; অর্থাৎ এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েও এই বোর্ডে ৫৬ হাজার ৭০৩ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ঝরে পড়া এই শিক্ষার্থীর হার ৩৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

জানা গেছে, ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৮০ হাজার ২৭৭ জন ছাত্র। এদের মধ্যে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৫১ হাজার ৩২২ জন। ঝরে পড়েছে ২৮ হাজার ৯৫৫ জন। ২০২০ সালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয় ৭৮ হাজার ৩০৮ জন ছাত্রী। এদের মধ্যে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৫০ হাজার ৫৬০ জন। ঝরে পড়েছে ২৭ হাজার ৭৪৮ জন। ঝরে পড়া ছাত্রদের অধিকাংশই বিভিন্ন স্থানে চাকরিজীবনে প্রবেশ করেছে। আর ছাত্রীদের অধিকাংশই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারী পরিস্থিতির জন্য ২০২০ সালে এসএসসিতে  অটোপাস দেওয়ার কারণে সবাই পাস করেছে। পরে তারা হয়তো লেখাপড়া না করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, অটোপাস দেওয়া না হলে এতসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ত না। মূলত করোনা মহামারীর কারণে অটোপাস এবং অনেকেই কর্মজীবনে যাওয়ার কারণেই এসএসসিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও এত সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত