স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তানু হত্যায় মামলা ও গ্রেপ্তার নেই

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৫৮ পিএম

বাগেরহাটে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম ভূঁইয়া তানু হত্যায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এ হত্যার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারনি পুলিশ। 

শুক্রবার রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরপর শনিবার দুপুরে তানুর মরদেহের ময়নাতদন্ত বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়। দুই দফা জানাজা শেষে বিকেলে শহরের সরুই সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

নূরে আলম ভূঁইয়া তানুর হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বিকেলে শহরের পুরাতন বাজার মোড়ে সমাবেশ করে জেলা বিএনপি। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা। হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি জেলায় চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনা, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য  এম এ সালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার কালো ব্যাজ ধারণ ও দোয়া, মঙ্গল ও বুধবার জেলার প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং বৃহস্পতিবার মিলাদ মাহফিল।

শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বাগেরহাট শহরের পূর্ব বাসাবাটি পদ্মপুকুরপাড় এলাকায় নূরে আলম ভূঁইয়া তানুকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ফরিদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে তানুর পরিবার।

বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য  এম এ সালাম বলেন, তানু দলের নিবেদিত কর্মী ছিলেন। রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা থাকত সব সময় তার। সেই তানুকে আমরা হারিয়েছি। তবে তানু শারীরিকভাবে না থাকলেও সে আমাদের হৃদয়ে থাকবে। কারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত ইতিমধ্যে প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করে সঠিক বিচার করবে। প্রশাসন ব্যর্থ হলে আগামীতে বিএনপি ওই খুনিদের বিচার করবে। 

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরে আলম ভূঁইয়া তানুর ময়নাতদন্ত শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে দুই দফা জানাজা শেষে বিকেলে শহরের সরুই সরকারি কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। খুনের পর পুলিশ জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে। একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। আশা করছি খুব শিগগির তাদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হব। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা নিয়ে থানায় আসেনি। আসলেই আমরা মামলা নেব।

বাগেরহাট জেলা সেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম ভূঁইয়া তানুকে (৩৮) শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পূর্ব বাসাবাটি এলাকায় সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। 

রাতেই বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।  হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পেরেছে বলে পুলিশের দাবি। 

নিহত এ নেতার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় মাদক, বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত তানুর বাড়ি বাগেরহাট শহরের পূর্ব বাসাবাটি এলাকায়। তিনি প্রয়াত আব্দুর রউফ ভূঁইয়ার ছেলে। তার স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ প্রতিপক্ষ ফরিদ নামে এক যুবক তানুকে গুলি করে হত্যা করেছে। পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যা বলে পরিবার দাবি করেছে। তারা এর বিচার দাবি করেন।

শুক্রবার রাতে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এ এস এম জব্বার ফারুকী বলেন, নূরে আলম ভূঁইয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত