জিতেও বিদায় জার্মানির, সঙ্গী কোস্টারিকা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:১০ এএম

শুরুতে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই কোস্টারিকা দুই গোল শোধ করে। তাতে ফের পিছিয়ে পড়ে। তখনই জার্মানদের রক্ত গরম হয়, নিজেদের চিরচেনা কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করে। তাতে খেলায় ফিরে প্রাণ। তারপর আরও তিনবার নাভাসকে পরাস্ত জালে বল জড়ান হেভার্টেজরা। নিশ্চিত হয় জয়। কিন্তু জয় দিয়ে ম্যাচ শেষ করলেও বিশ্বকাপ থেকে নিতে হচ্ছে বিদায়।

কাতারের আল বায়াত স্টেডিয়ামে কোস্টারিকাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে জার্মানি। যে গোল ব্যবধান ফিরিয়ে নেয় ১৬ বছর পেছনে। অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে ২০০৬ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক জার্মানি একই ব্যবধানে হারিয়েছিল কোস্টারিকাকে। সেবার সেই জয়ে জার্মানরা সেমিতে গিয়েছিল। তবে কাতারের এই টেনে নিলো না পরের রাউন্ডে। 

আল বাইয়াত স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার আগেই জার্মানির ললাট লেখা হয়ে গিয়েছিল। ৮০ বছরে যেটা কখনও হয়নি, সেটাই হলো। পরপর দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায় থেকে ছিটকে গেল জার্মানি। কারণ ই গ্রুপের অন্য ম্যাচে যে জাপান স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চলে গেছে পরের পর্বে। অন্যদিকে হেরেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় স্পেন চলে গেছে শেষ ষোলোতে।

ম্যাচের দশম মিনিটে এক গোল দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানরা। এগিয়ে থেকেই তারা গিয়েছিল বিরতিতে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পরই গোল হজম করে বসে জার্মানরা। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে দুর্দান্ত গোলটি করেন ইয়েলৎসিন তাজেদা। ওয়াটসনের হেড ম্যানুয়েল ন্যুয়ার ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন। কিন্তু বল ধরে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে শট করে গোল করেন তাজেদা।

৬৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার একটি শট সাইড বারে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় জার্মানি। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে আবারও গোল। এবার গোল করেন কোস্টারিকার হুয়ান পাবলো ভার্গাস। বাতাসে ভেসে আসা বলে আলতো করে হেড করেন ভার্গাস। ম্যানুয়েল ন্যুয়ার টেরই পাননি। তার পায়ে লেগে বল চলে যায় জার্মানির জালে।

তিন মিনিট পর আবারও গোল। এবার গোল করে জার্মানি। গোলদাতা বদলি খেলোয়াড় কাই হাভার্টজ। থমাস মুলারের পরিবর্তে মাঠে নামা হাভার্টজই গোল করেন। ফুলক্রুগের পাস থেকে বল পেয়ে গোলটি করেন তিনি। ৮৫তম মিনিটে আবারও গোল। এবারও গোল করেন কাই হাভার্টজ। গুনাব্রিরর অসাধারণ এক শট থেকে বল চলে যান বক্সের বাম প্রান্তে। দৌড়ে এতে বাম পায়ের এক টোকায় বলটি কোস্টারিকার জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ৮৯তম মিনিটে আবারও গোল জার্মানির। এবার গোল করেন নিকলাস ফুলক্রুগ। লেরয় সানের পাস থেকে গোলটি করেন তিনি। কিন্তু লাইন্সম্যান ফ্ল্যাগ তুলে দাঁড়ালে গোল বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু গোলদাতা ফুলক্রুগ অফসাইড ছিলেন না বলে দাবি করেন। যার ফলে, ভিএআর চেক করা হয়। ভিএআর দেখে গোল দেওয়া হয় জার্মানির পক্ষে।

এই ম্যাচ জিতেও শেষ ষোলো নিশ্চিত হলো না চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির। ছিটকে যেতে হলো গ্রুপ পর্ব থেকেই। কোস্টারিকাও বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলোতে নাম না লিখিয়েই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত