বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেলগেইটসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। সাঁজোয়া যান নিয়ে শহরজুড়ে টহল দিয়েছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে শহরের পপুলার গলিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে বুধবার সকাল থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক, ফতুল্লার সাইনবোর্ড লিংক রোড এলাকায় এবং মঙ্গলবার রাত থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট টোল প্লাজা এলাকায় যথাক্রমে একাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের দাবি, নাশকতা এড়াতে এই তল্লাশি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানীর ঢাকায় প্রবেশ করতে মহাসড়ক একমাত্র সড়কপথ। যে কারণে মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে তল্লাশিসহ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বুধবার সকাল থেকে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। মূলত নাশকতা এড়াতে এই তল্লাশি চলছে। এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জসহ বেশ কয়েকটা স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এটা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি এস এম আবুল কাশেম আজাদ বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনাঘাট টোল প্লাজা এলাকার ঢাকামুখী লেনে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও বোমা নিয়ে কেউ যাতে ঢাকা প্রবেশ করতে না পারে, জানমালের ক্ষতি করতে না পারে। মূলত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নাশকতা এড়াতে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, মহাসড়কে দুটিসহ জেলায় সাতটি চেকপোস্ট রয়েছে। নতুন করে মহাসড়কে দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
