বাবা-মাকে আহত আর প্রতিবেশীকে খুন, পরে গণপিটুনিতে মৃত্যু

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৬ এএম

নিজের বাবা মাকে কুপিয়ে জখম করার পর তাকে আটক করতে আসা আরেক প্রতিবেশিকেও কুপিয়ে হত্যা করেছে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। পরে ক্ষুদ্ধ জনতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের শিজক গলাচিপা এলাকায় মানসিক রোগী মঞ্জু চাকমা (৩০)-র আঘাতে সরল চাকমা (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে মঞ্জু চাকমাও (৩০) নিহত হন। শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে বলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঘাতক মঞ্জু চাকমা তার মা কালোচুলি চাকমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। স্ত্রীকে বাঁচাতে তার বাবা রত্নকুমার চাকমা এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে মঞ্জু চাকমা পালিয়ে যায়। পরে আহত রত্মকুমার চাকমাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাঘাইছড়ি সদর হাসপাতালে নিলে হাসপাতালের চিকিৎসক রত্মকুমারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা আরও জানান, এ ঘটনার পরে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকালের দিকে মঞ্জু চাকমাকে পালিয়ে যেতে দেখে আটকের চেষ্টা করে এলাকাবাসী। এ সময় তাকে ধরতে গেলে সরল চাকমা (৫০) নামের এক স্থানীয়কেও ধারালো দা দিয়ে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিতি জনতা মঞ্জুকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মঞ্জুর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সারোয়াতলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুল বিহারি চাকমা বলেন, মঞ্জু একজন মানসিক রোগী। সে আগের দিন রাতে তার মা ও বাবাকে কুপিয়ে আহত করে, পরদিন পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরতে গেলে তার হাতে থাকা দায়ের কোপে সরল চাকমা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি মারা যান। পরে উপস্থিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তারে পিটুনি দিলে সে-ও ঘটনাস্থলে মারা যায় বলে জেনেছি।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন দুজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার জানান, 'ঘটনাটি আমি শুনেছি। খুবই দুঃখজনক। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির কারণে ঘটনাটি হলো। যতুটুকু জেনেছি, মঞ্জু চাকমা নামের ওই ব্যক্তি প্রথমে তার বাবা-মাকে আহত করে, পরে তার আঘাতে একজন প্রতিবেশী মারা গেছেন এবং পরে স্থানীয়দের আঘাতে তারও মৃত্যু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত