রূপগঞ্জে চুলা ধরাতেই বিস্ফোরণ, ৪ জন দগ্ধ

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২৪ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বাসায় চুলায় আগুন ধরানোর পর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসায় এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছে ২ জন। ঘটনা দুটি ঘটেছে গতকাল শনিবার। 

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ : গতকাল সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ডহরগা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন জাহিদ হাসান (৪০), তার স্ত্রী রুমা বেগম (২৭), মেয়ে লাবণী আক্তার জাহিদা (১১) ও ছেলে ইয়াসিন (৮)। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এস এম আইউব হোসেন জানান, জাহিদের শরীরের ২৯ শতাংশ, রুমার ২৩, লাবণীর ২২ ও ইয়াসিনের ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, জাহিদ হাসানের বাড়ি ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলায়।

তার মেয়ে লাবণী স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ও ইয়াসিন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরে থাকা সিলিন্ডারটি আগে থেকেই লিক ছিল। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। সকালে রুমা আক্তার চুলায় আগুন দেওয়া মাত্রই মশারিতে আগুন লেগে যায়।

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, ভোরে ডহরগা এলাকায় জামাল হাজির বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রুমা বেগম জানান, পাঁচতলা বাড়িটির নিচতলায় ভাড়া থাকেন তারা। তার স্বামী একটি কারখানায় চাকরি করেন। সকাল ৬টায় রান্না করার জন্য ওঠেন তিনি। রান্নাঘরে দিয়াশলাই জ¦ালাতেই চুলা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে রুমে থাকা ফ্রিজ ও টেলিভিশনেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। তখন তার শরীরে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া ঘুমিয়ে থাকা দুই সন্তান ও স্বামীর শরীরও ঝলসে যায়।

এসি বিস্ফোরণ : পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল ভোরে রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের পূর্ব ইমাননগর খালপাড়ে একটি বাসায় এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধ দুজন হলেন হাজেরা বেগম (৪৫) ও আরিয়ান (১৪)। তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। 

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এস এম আইউব হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, হাজেরা বেগমের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং আরিয়ানের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হাজেরার স্বামী আব্দুস সালাম জানান, তারা নিজেদের ওই টিনশেড বাড়িতে থাকেন। আরিয়ান তাদের বাসায় ভাড়া থাকে এবং একই সঙ্গে বাসার গৃহকর্মী। রাতে তিনি অন্য বাসায় ছিলেন। তিনি আরও জানান, এসির গ্যাস লিকেজের কারণে মশার কয়েল থেকে আগুন লেগে এই বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত