মুন্সীগঞ্জ শহরের কোটগাঁও এলাকায় জেসিকা আক্তার (১৬) নামে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমানের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ে সদরের সাতানিখিল এলাকার সেলিম দেওয়ানের মেয়ে জেসিকা। সে শহরের এভিজেএম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। জেসিকা মায়ের সঙ্গে শহরের কোটগাঁও এলাকার ভাড়া বাসায় থাকত।
পরিবারের দাবি, বিকেলে আরিফুর রহমানের ছেলে বিজয়ের বাড়িতে গেলে জেসিকাকে নির্যাতন করা হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় বিজয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান ও কয়েকজন মিলে প্রথমে জেসিকাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় নিয়ে এলে সেখান থেকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। পরে ঢাকা রওনা হয়ে রাত ৮টার দিকে জেসিকাকে নিয়ে পুনরায় হাসপাতালে ফেরত আসেন তারা। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক বলেন, ‘সন্ধ্যায় ওই কিশোরীকে (জেসিকা) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছিল। পরে রাত ৮টার দিকে আবার মৃত অবস্থায় মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার মুখসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই কিশোরী পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছে বলে আমাদের জানায় হাসপাতালে নিয়ে আসা ছেলেটি। তবে এমন ঘটনা হলে রোগীর মাথায় রক্তক্ষরণের চিহ্ন থাকত, যা এই রোগীর ছিল না। ময়নাতদন্ত ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না।’
নিহতের ভাই জিদান বলেন, ‘বিকেলে বাড়ি থেকে ঘুরতে বের হয় জেসিকা। সন্ধ্যা পর্যন্ত সে বাড়ি ফেরেনি। পরে ৬টার দিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ির পাশের প্রতিবেশী বিজয় নামে এক বন্ধু ফোন দিয়ে জানায় জেসিকার অবস্থা খারাপ। সে ছাদ থেকে লাফ দিছে। আমরা হাসপাতালে আসার পর বিজয় চলে যায়। অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে জেসিকার মৃত্যু হয়। এটা হত্যাকাণ্ড। ওরা আমাদের বলছে ছাদ থেকে লাফ দিছে, আর হাসপাতালে জানিয়েছে পড়ে গেছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খানদার খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘যারা জেসিকাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে, তারা ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার কথা বলছে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যু না হত্যাকাণ্ড তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সময় যারা ছিল তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’
