ভূমিকম্পের তড়িঘড়ি খবর দিয়ে বিপাকে তুর্কি সাংবাদিক

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৩০ পিএম

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঘটে ভয়াবহ ভূমিকম্প। সেদিন ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ২০০ মাইল দূরে অবস্থান করছিলেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মির আলি কোসের। ভূমিকম্প আঘাত হানার পর প্রথমে ডাইনিং টেবিলের নিচে, এরপর দ্রুত নিজ আবাসস্থল থেকে বেরিয়ে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন হাতে তিনি ছুটে যান ভূমিকম্পে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায়। শুরু করেন বেঁচে যাওয়া মানুষের সাক্ষাৎকার নিতে। উদ্ধারকর্মী এবং বেঁচে যাওয়াদের ভাষ্য তিনি ছড়িয়ে দেন টুইটারে। হয়তো ভেবেছিলেন তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রচার করে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কিন্তু এরপরই ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি করা হয় এই সংবাদকর্মীকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিন বছরের জেলও হতে পারে কোসেরের।

তুরস্কে ভূমিকম্পের সংবাদ প্রকাশের জেরে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের শিকার ৪ সংবাদকর্মীর একজন মির আলি কোসের। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমিকম্প সংশ্লিষ্ট ভুয়া খবর প্রচারের দায়ে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে চার সংবাদকর্মীকে তদন্তের আওতায় এনেছে তুর্কি প্রশাসন। অভিযুক্ত সবাই ভূমিকম্প কবলিত এলাকা থেকে সরাসরি সংবাদ প্রকাশ করেন। এসব প্রচারণায় অনেকেই উদ্ধার, ত্রাণ ও সরকারের অবহেলা নিয়ে অভিযোগ তোলেন। কিন্তু সেগুলোকে অতিরঞ্জিত এবং ভুয়া তথ্য সংবলিত বলে দাবি করে সরকার। 

বিশেষ করে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তাৎক্ষণিক খবর প্রচারকারীদের সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ‘উসকানিদাতা’ তকমা দেন। তিনি কঠোরভাবে জানিয়ে দেন, যারা ভূমিকম্পে সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে ‘ভুয়া’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ খবর প্রচার করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

মির আলি কোসের দাবি, খবর প্রকাশের বেলায় তিনি বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, পুলিশ, উদ্ধারকারীসহ সবপক্ষের বক্তব্য নিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ জানাশোনা ছাড়া কোনো তথ্যই তিনি প্রকাশ করেননি। এদিকে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে সমালোচনা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)। সংস্থাটি বলেছে, এটিকে বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ বলে আখ্যা দেওয়া যায়। উল্লেখ্য, ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে উদ্ধারকাজ, ত্রাণ তৎপরতা এবং ভবন নির্মাণে দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত