অ্যাডিলেডে জেমস অ্যান্ডারসনকে বোল্ড করে রুবেল হোসেনের উচ্ছাসটা এখনও চোখে ভাসে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেদিন ১৫ রানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। ইংলিশরা ছিটকে গিয়েছিল টুর্নামেন্ট থেকে। সেদিনের পর থেকেই সাদা বলের ক্রিকেটে বদলে যায় ইয়ন মরগ্যানরা। যেন দেশটির ক্রিকেটে নীরব এক বিপ্লব ঘটে গেছে। যা তাদের এনে দিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের তকমা।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেরই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সামনে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। আইসিসির ওয়ানডে সুপার লিগের অংশ ৩ ম্যাচের সিরিজটির প্রথমটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তবে তার আগে দেখে নেওয়া যাক আগের ২১ বারের দেখায়, ব্যাক্তিগত সংগ্রহে কারা এগিয়ে। সেখানে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা বোলিংয়ে উজ্জ্বল হলেও ব্যাট হাতে সেরা অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস।
সবচেয়ে বেশি রান
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড ইংল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের। বাঁহাতি এই ওপেনার মাত্র ৮ ম্যাচ খেলে ৬১০ রান করেছেন। ৮৭.১৪ গড়ে রান সংগ্রহ করা দেখে যে কারো চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। তিনটি অর্ধশতকের সঙ্গে দুটি অর্ধশত রানের ইনিংস রয়েছে। যেখানে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১৫৪। তার ধারে কাছে নেই আর কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
তবে বাংলাদেশি দুই ব্যাটসম্যান ইংলিশ বোলারদের বিরুদ্ধে তান্ডব চালিয়েছিলেন। একজন তামিম ইকবাল (৪৮৮), অন্যজন মুশফিকুর রহিম (৪৮৫)। ইংলিশদের বিপক্ষে উভয়ই খেলেছেন ১৪টি করে ম্যাচ। তাতে তারাই তালিকার প্রথম ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে গেছেন।
সবচেয়ে বেশি উইকেট
ব্যাট হাতে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস সেরা হলেও বল হাতে দুই দলের দেখায় উজ্জ্বল টাইগারদের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। তিনিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ১৪টি ম্যাচ। ঝুলিতে রয়েছে ১৭ উইকেট। তার ইকোনমি ৫.০১ ও গড় ৩৬.৭০। দলটির বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার ২৯ রান খরচায় ৪ উইকেট। যা ২০১৬ সালের অক্টোবরে মিরপুরে অর্জন করেছিলেন ম্যাশ।
এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার উইকেট সংখ্যা ১৪টি। অন্যদিকে ইংলিশদের হয়ে টাইগারদের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ১২ উইকেট শিকার করেছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ।
সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত
ব্যাট হাতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের। ২০১০ সালের জুলাইয়ে বার্মিংহামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৪০ বলে ১৫৪ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তার এমন কীর্তিতে ম্যাচটি ১৪৪ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছিল ইংলিশরা। ৯ বছর পর কার্ডিফে স্ট্রাউসকে পেছনে ফেলার সুযোগ পেয়েছিলেন জেসন রয়। ২০১৯ বিশ্বকাপে মাশরাফীদের বিপক্ষে ১২১ বলে তিনি ১৫৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রয়। তার ব্যাট থেকে সেদিন ১৪টি চার ও ৫টি ছক্কা এসেছিল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও একটি দেড়শ ছাড়ানো রানের ইনিংস আছে। সেটাও অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের। স্ট্রসি সেটা খেলেছিলেন ২০০৫ সালে নটিংহামে। ১৫২ রানের সেই ইনিংসটি ছিল দলীয় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।
ইনিংস সেরা বোলিং
এই তালিকায় সবার ওপরে নাম পল কলিংউডের। নটিংহামে স্ট্রসির দেড়শো ছাড়ানোর দিনে শতক করেছিলেন ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কও। পরে হাতেও ঝলক দেখান তিনি। তার পেস তোপে গুটিয়ে যান টাইগার ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ৩১ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। একটি মেডেনসহ সেদিন তার ইকোনমি রেট ছিল ৩.১০।
কলিংউডই একমাত্র ইংলিশ বোলার যিনি টাইগারদের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, আদিল রশিদ ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজারা শিকার করেছেন চারটি করে উইকেট।
সর্বোচ্চ জুটি
সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস আরও একটি রেকর্ডে নিজের নাম জড়িয়েছেন। সেটা সর্বোচ্চ জুটির তালিকায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১০ সালে বার্মিহামে জনাথন ট্রটকে সঙ্গে নিয়ে ২৫০ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি। এছাড়া নটিংহামে ২০০৫ সালে স্ট্রাউস কলিংউডের সঙ্গে ২১০ রানের জুটি গড়েছিলেন।
অন্যদিকে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গড়েছিলেন ১৬৬ রানের জুটি।
