প্রবাসীর মেয়েকে অপহরণ উদ্ধারে নেই তৎপরতা

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৩, ০১:৪৭ এএম

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার দয়হাটা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল সালাম গত ২০ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। সালামের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ফারজানা আক্তার সুইটিকে (১৭) বাড়ির পাশের সড়ক থেকে গত ৯ মার্চ সকালে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার দয়াহাট (টেক্কা মার্কেট) গ্রামে শরিফুল মোল্লার (২৬) নেতৃত্বে অপহরণ করা হয়। কিন্তু ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও মেয়ের সন্ধানে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সালাম। থানা পুলিশ প্রথম থেকেই অসহযোগিতা করছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারটির। এমনকি থানায় মামলা করায় অপহরণকারীদের স্বজনরা সালামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সালাম ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় ফের মামলা করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার র‌্যাব ১০ এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। অপহরণের পর সুইটির মা নাজমা বেগম শ্রীনগর থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সুইটি শ্রীনগর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। প্রতিদিন কলেজে আসা-যাওয়ার পথে পাশের গ্রামের বখাটে শরিফুল মোল্লা তাকে প্রেম নিবেদন করে উত্ত্যক্ত করত। সুইটি প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে শরিফুল মোল্লা তাকে যে কোনো সময় অপহরণ করে তুলে নিয়ে যাবে বলে ভয়ভীতি দেখাত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ মার্চ সকাল ৭টার দিকে সুইটি ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ নিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাড়ির পাশের রাস্তায় গেলে শরিফুল মোল্লার নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয় জন সুইটিকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় সুইটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। কিন্তু অপহরণকারীরা দ্রুত তাকে নিয়ে সটকে পড়ে। শরিফুলের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার বাবার নাম সিরাজ মোল্লাহ, বাড়ি শ্রীনগর থানার আরধীপাড়া গ্রামের কানাইনগর। তার বিরুদ্ধে এর আগেও দুই মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান বছর চারেক আগে কানাইনগরের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়েকে অপহরণ করে শরিফুল। পরে ওই মেয়ের স্বজনরা উদ্ধার করে তাকে। এছাড়া আরও এক মেয়েকেও সে অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে।

সুইটি অপহরণ মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এম এম আবু মুসান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, ইনশাল্লাহ তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবে।’ শ্রীনগর থানায় অপহরণ মামলাটি করার পর শরিফুলের স্বজনরা গত ১৭ মার্চ রাতে হামলা চালায় আব্দুল সালামের বাড়িতে। এ ঘটনায়ও ১০ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীনগর থানায় মামলা করেন সুইটির মা নাজমা বেগম। ওই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাজমা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করে আমার বাড়িতে ঢুকে শরিফুলের স্বজনরা মারপিট শুরু করে। আমার স্বামীকে রড দিয়ে বেদম পিটিয়েছে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মেরেছে। তারা বারবার বলেছে মামলা তুলে না নিলে জানে মেরে ফেলবে।’

আব্দুল সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সুইট দ্বিতীয়। পাশের গ্রামের শরিফুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে সুইটকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। আমি দেশের বাইরে থাকায় মেয়েকে পড়ালেখা করাতে পারছিলাম না। নিরুপায় হয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলাম। যেদিন বিয়ে হওয়ার কথা ঠিক তার আগের দিন আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে শরিফুল। তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়াতে পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না আমাদের। ঘটনার পর মামলাও নিতে চায়নি পুলিশ। পরে মুন্সীগঞ্জের এসপি স্যারের সঙ্গে দেখা করি। সব শোনার পর স্যারের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হয়। কিন্তু থানা পুলিশ আমাকে বলেছে মেয়ের সন্ধান পেলে জানাতে। তারা তখন উদ্ধার করে দেবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘শরিফুল এর আগেও দুটি মেয়েকে অপহরণ করেছিল। তার কাজই উঠতি বয়সের মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীনগর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে এমন প্রবাসীর মেয়ে প্রতিদিন মিনিমাম ১০টি যায়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এদিকে ঘটনার ১৩ দিনেও মেয়ে উদ্ধার না হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে মেয়ের সন্ধান চেয়ে র‌্যাব ১০ এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আব্দুস সালাম। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত সুইটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে র‌্যাব। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত