শেষ মূহর্তে মেসির গোলে পূর্ণতা আর্জেন্টিনার

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৩, ১১:৪৬ এএম

শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ আর্জেন্টিনার পায়ে। একের পর এক সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। তবে সেগুলো হচ্ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। কোনোটা আবার প্রতিহত হচ্ছিল। এভাবেই খেলা গড়াচ্ছিল শেষের দিকে। সমতায় শেষের আভাস যখন জোড়ালো হয়ে উঠছিল তখনই থিয়াগো আলমাদা এগিয়ে নেন দল। শেষ মুহূর্তে গোল করেন লিওনেল মেসিও। তাতে ফুটবল জাদুকরের ইতিহাস গড়ার রাতে রাতে পানামার বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বুয়েনস এইরেসের এল মনুমেন্তালে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালের প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। থিয়াগো আলমাদার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দুর্দান্ত ফ্রি কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। যে গোলে পেশাদার ক্যারিয়ারে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মেসির গোল হলো ৮০০টি।

আর্জেন্টিনার ভক্তদের অপেক্ষার প্রহর আজ ফুরিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবার খেলতে নেমেছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচ। জার্সিতে ‘তিন তারা’ নিয়েও আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ। আর সে ম্যাচেই কিনা তাদের এক অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

খেলার প্রথম মিনিট থেকে আক্রমণের ঢেউ বইয়ে দিয়েও তারা পাচ্ছিল না জালের দেখা। লিওনেল মেসির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াল পোস্ট। দ্বিতীয় মিনিটেও সুযোগ পেয়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু বক্সে বল পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি ম্যাক আলিস্টার। পরের মিনিটে প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে দিয়ে কোনাকুনি এগিয়ে শট নেন মেসি। তবে যথেষ্ট গতি না থাকায় নিয়ন্ত্রণে নিতে সমস্যা হয়নি গোলরক্ষকের।

১৫ মিনিটে মেসিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পানামার ডিফেন্ডার কেভিন গালভান। প্রায় ২৭ গজ দূর থেকে নেওয়া পিএসজি তারকার দুর্দান্ত ফ্রি কিক দুর্ভাগ্যবশত পোস্ট কাঁপিয়ে ফেরে।

খেলার সময় যখন গড়ায় ৭৮তম মিনিটে, তখনই ডেডলক ভাঙতে সক্ষম হয় তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মেসির বাঁকানো ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফেরার পর বল বুক দিয়ে নামিয়ে শট নিতে গিয়ে ঠিকমতো পারেননি লিওনার্দো পারেদেস। সুযোগ পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে জোরাল শটে দলকে এগিয়ে নেন আলমাদা।

নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে মাইলফলক ছোঁয়া গোলটি করেন মেসি। এর আগে তার দুটি ফ্রি কিক ভাগ্যের ফেরে পোস্টে লাগলেও এবার আর ব্যর্থ হননি তিনি, বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে খুঁজে নেন ঠিকানা। জয়টাও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার।

পুরো খেলার ৭৫ শতাংশ সময় নিজেদের দখলে বল রাখে আর্জেন্টিনা। ২৬ বার সুযোগ ৯টি শট ছিল লক্ষ্য বরাবর। অন্যদিকে মাত্র ২৫ শতাংশ সময় বল পায়ে নিতে পারা পানামা ২ বার সুযোগ পেলেও লক্ষ্য বরাবর কোনো শট নিতে পারেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত