আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের সুবাস পাওয়ার তৃপ্তি যেমন আছে, তেমনি গোটা একদিনও ব্যাট করতে না পারার আক্ষেপটাও কম নয় ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সের কণ্ঠে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করেছে ৮১ ওভার, টেস্টে দিনের হিসাবে পুরো একদিনও নয়। শেষ ৫ উইকেটের পতন ঘটেছে মাত্র ৩৮ রানে। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যে এমন ব্যাটিং দুশ্চিন্তার কারণ হবে তেমন আভাসই দিয়ে রাখলেন সিডন্স, সেই সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের ইনিংসগুলো আরেকটু বড় না হওয়ার আক্ষেপও আছে।
টানা টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলার কারণেই বোধহয় টেস্টেও সেই আগ্রাসী ব্যাটিং দেখা গেছে বাংলাদেশের, বিশেষ করে সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের ব্যাটিংয়ে। ম্যাচশেষে সিডন্স বললেন, ‘বেশ আক্রমণাত্মক খেলেছে। বেশ কিছু বাজে বল করেছে ওরা, ভালো লেগেছে যে ছেলেরা সেই বাজে বলের সদ্ব্যবহার করেছে। রান করার গতি বেশি ছিল এতে করে খেলাটা বেশ দ্রুত এগিয়েছে। যেভাবে তারা ব্যাট করেছে তাতে আমি খুশি। চারজন ব্যাটসম্যান রান করেছে, তাদের ভেতর একজন সেঞ্চুরি করেছে। চারজন করলেই ভালো হতোর। লিটন আর সাকিব সেঞ্চুরি পেতে পারত, টেলএন্ডারদের সহায়তা পেলে হয়তো মিরাজও।’
প্রথম ইনিংসে ৩৬৯ রান, আইরিশদের বিপক্ষে এতে করে খুব একটা খুশি হতে পারছেন না সিডন্স, ‘শতভাগ সন্তুষ্ট নই। আমার মনে হয় আরও তিনজন শতরান করতে পারত। অন্তত দুই জন। সাকিব আর লিটন খেলাটাকে অনেকদূর নিয়ে যেতে পারত। তবে চার উইকেট হারানোর পর এই ব্যাটিংটাই বেশ ভালো মনে হচ্ছে।’ বিরুদ্ধস্রোতে সাঁতরে ১০ম টেস্ট শতকের দেখা পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম। অনুশীলনে ঘাম, শ্রম আর আত্মনিবেদনের প্রতিদান পেয়েছেন। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সিডন্স, ‘অসাধারণ ইনিংস। আরও একবার সে নিজেকে প্রমাণ করল। আমরা একটু খারাপ সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম, এরকম সময়েই সে ভালো খেলে। সে উইকেটে থিতু হয়ে ছিল। সে সংকটের সময়টা পার করে দিয়েছে এবং রান করেছে। শুধু তাই নয়, যখন দরকার তখন সে আগ্রাসীও হয়েছে। বাজে বল পেলেই সে মেরেছে, তবে নিজের রক্ষণের বেলায় সে সতর্ক ছিল। তার খেলায় আমি খুব খুশি, টেস্টে এরকম খেলতে পারা ক্রিকেটার আমাদের অনেক দরকার।’
মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাট হাতে আরও পরিণত হয়ে ওঠাটাও উপভোগ করছেন সিডন্স, ‘আমার তো মনে হয় মেহেদি এখন পুরোপুরি ব্যাটসম্যান। একজন সত্যিকারের অলরাউন্ডার যে ব্যাট করতে পারে। সে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে, টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছে। তার হাফসেঞ্চুরিটা ছিল খুবই সময়োপযোগী। আক্রমণাত্মক, একই সঙ্গে একটা প্রান্ত আগলে এক এক করেও নিয়েছে। ওয়ানডেতে তো সে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান, যদি বল মারার সক্ষমতা চিন্তা করি। সাত নম্বর জায়গাটাতে সে দারুণ ভাবে নিজেকে বসিয়ে নিয়েছে।’
নবীন আয়ারল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা শুরুটা ভালো করেননি। শেষদিকেও ৫ উইকেট পড়েছে অল্প রানে। সিডন্সের খুশি হওয়ার কথা নয় এমন পারফরম্যান্সে। বাঁচিয়ে দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও সাকিব, তাই তো এমন ব্যাটিংয়ের পরও জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ।
