ময়মনসিংহের ঈদবাজারে বিক্রি বাড়ছে প্রতিদিন

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৩১ পিএম

ঈদের আর বেশি দেরি নেই। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই। ময়মনসিংহে এখন দিনভর বেচা-কেনায় মুখরিত ফ্যাশন হাউজ ও বিপণি বিতানগুলো। চলছে গভীর রাত অবধি। ফ্যাশন সচেতনরা পছন্দের পোশাক কিনতে ছুটে বেড়াচ্ছেন নগরীর এক দোকান থেকে আরেক দোকানে।

এদিকে, ঈদবাজারে বিক্রি নিয়ে চলছে বিক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রয়া। বিক্রেতাদের আশা দিন যত গড়াবে বেচাকেনা আরও জমে উঠবে। তবে ক্রেতারা বলছেন, গতবারের তুলনায় এবার বাড়তি দামের কথা। পোশাকের বাড়তি দামের কারণে স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের নগরীজুড়ে দেশের নামি-দামি ফ্যাশন হাউজগুলো বিপুল পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে। যতই দিন যাচ্ছে কেনাকাটায় ঈদ বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েই চলেছে। নগরীর স্টেশন রোড, গাঙিনার পাড়, নতুনবাজার, রামবাবু রোড, সি কে ঘোষ রোড, চরপাড়াসহ ছোট-বড় সব ধরনের শপিং মল, কাপড়ের দোকান, নামি-দামি ফ্যাশন হাউজ ও বিপণি বিতানগুলোতে ক্রেতাদের এখন উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শাড়ি, শার্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, জিন্সসহ নানা ডিজাইনের পোশাক। কম দামের সুতি পোশাকের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।

তবে এবার নারীদের পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান-ভারতের পোশাকের আদলের তৈরি ‘নাইরা’ নামের ড্রেস। এছাড়াও ক্রেতাদের পছন্দে রয়েছে সারারা, গারারা, লেহেঙ্গা, স্কার্ট ও ফ্লোরটাচ-থ্রি পিস, টু পিস, কাজ করা জর্জেট কামিজ, ভিসকস কামিজ, বিভিন্ন রঙের প্রিন্ট লং শার্ট, টপস, টিউনিকস, কামিজের জন্য রয়েছে এমব্রয়ডারি স্ক্যান্টস, পালাজ্জো ও লেগিংস। পাশাপাশি বাজারে বুটিকসের থ্রি পিস, কাটা থ্রি পিস, ভারতীয় শাড়ি, কাতান, সিল্ক, টাঙ্গাইল শাড়ি, তাঁতের শাড়ি ও জামদানি শাড়ি।

এছাড়াও টেইলার্সের দোকানেও প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। ঈদের দুই সপ্তাহ সময় থাকতেই অর্ডার তেমনভাবে আর নেওয়া হচ্ছে না বলে টেইলার্স মালিকরা জানান।

এদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নগরীর ফুটপাতগুলোতে কম দামে পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। শেষ সময় হওয়ায় তাদের বেচাবিক্রি জমজমাট। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি তারা।

ডিঙ্গী ফ্যাশনের মালিক মো. সুমন বলেন, ‘সাধারণত শবেবরাতের পর থেকেই আমাদের ঈদের বিক্রি শুরু হয়। রোজার প্রথম কয়েকদিন অনেক ক্রেতা শুধু জামাকাপড় দেখেন এবং দাম শোনেন। এখন প্রতিদিনই বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে।’

কাজী টাওয়ারের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে গত কয়েক ঈদে  লোকসানে ছিলাম। এবার করোনার প্রকোপ নেই। কাস্টমাররাও স্বাচ্ছন্দ্যে মার্কেটে আসছেন। আশা করি, করোনার লোকসান এবার পুষিয়ে উঠতে পারব।’

ফুলপুর থেকে দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে মার্কেটে এসেছেন প্রীতি আক্তার। তিনি বলেন, আত্মীয়-স্বজন ও নিজের জন্য জামা-কাপড় কিনতে এসেছি। মার্কেটে অনেক ভিড়। সব জিনিসের দাম বেশি।

এদিকে, জেলার সর্বত্র পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সব শপিংমল ও বিপণি বিতানের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকেও পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। ঈদকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত