কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ফ্লাড কন্ট্রোল ড্রেনেজ (এফসিডি) প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও তিন সদস্য সচিবসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুয়েল সাংমা বলেন, কাবিটার স্ক্রিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তিনজন উপসহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, ওবায়দুল হক ও এনায়েত হোসেন উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে আছেন।
কাবিটার নীতিমালায় প্রকল্পের বাঁধসমূহ সংস্কার ও মেরামত কাজ প্রকল্প এলাকার আওতাধীন ও নিকটবর্তী জমির প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে পিআইসি গঠনের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও গঠিত পিআইসির সভাপতিদের কোনো বাঁধের নিকটবর্তী এলাকায় জমি নেই। এমন অভিযোগ এনে খালিয়াজুরীর শফিকুল ইসলাম তালুকদার নামের এক কৃষক গত ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে ও ১৭ এপ্রিল নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধনের মতো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়। গত ২০ এপ্রিল বিকেল ৫টায় নেত্রকোনা প্রেস ক্লাবের সামনে খালিয়াজুরীর পিআইসির কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে ‘হাওর রক্ষা উন্নয়ন পরিষদ’র ব্যানারে মানববন্ধন পালিত হয়। অন্যদিকে, গত ২৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘সংশ্লিষ্ট ফসল রক্ষা বাঁধ সংস্কার কমিটি’র ব্যানারে পিআইসি কমিটির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রকল্প সভাপতির বক্তব্য নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন পালিত হয়।
দুদক ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগকারী শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা কমিটির সভাপতি ইউএনও ও তার অফিস সহকারী মোশারফ হোসেন (ইজাহারুল), সদস্য সচিব এবং পাউবোর দুজন কার্যসহকারী এনামুল হক ও সোহেল মিয়া যোগসাজশ করে পিআইসিগুলো গঠন করে এগুলোর সভাপতি নির্বাচন করেন। এমন এক ব্যক্তিকে পিআইসির সভাপতি করা হয়েছে, যা তিনি নিজেই জানেন না এবং তার নামে যে ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে সেটিও তিনি জানেন না। প্রকল্প এলাকার কৃষকদের মাইকিং করে গণশুনানির মাধ্যমে পিআইসি গঠনের নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি।
এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান। পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের নাম অভিযোগে আনা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য কমিটি গঠন করার এখতিয়ার আমাদের নেই।
খালিয়াজুরীর ইউএনও রুয়েল সাংমা দাবি করেন, মাইকিং করে প্রচারের মাধ্যমে গত নভেম্বর মাসে নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি গঠন করা হয়েছে। সে সময় কোনো অভিযোগ আসেনি। ধান কাটা শেষে এখন অভিযোগ এলো। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। অভিযোগকারী প্রমাণ করুক, আমরাও প্রস্তুত আছি।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, এ বিষয়ে দুদকের দেওয়া অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টি দুদকই দেখবে। আমার কাছে অভিযোগ এলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
