সেপ্টেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট সেতুর সংস্কার শেষ হবে

আপডেট : ০৭ মে ২০২৩, ১২:১৩ এএম

চলতি বছরে ট্রেনে করে কক্সবাজারে যেতে প্রস্তুত হচ্ছে কালুরঘাট সেতু। এজন্য আগামী জুনে সংস্কার কাজ শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরে শেষ হবে। আর সংস্কারকালীন হালকা যানবাহন ও মানুষ চলাচলের জন্য দুটি ফেরি থাকবে এবং ভারী যানবাহন শাহ আমানত সেতু দিয়ে চলাচল করবে। গতকাল শনিবার সার্কিট হাউজে রেল সচিবের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, কালুরঘাট সেতু সংস্কারকালীন তিন মাস চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় সেতুর ওপর যান চলাচলও বন্ধ থাকবে। যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে ফেরি চালু করবে সড়ক ও জনপথ। এছাড়া যানবাহন বিকল্প পথে শাহ আমানত সেতু দিয়ে চলবে। একই সঙ্গে ছোট গাড়ি ও মানুষ পারাপারের জন্য থাকবে ফেরির ব্যবস্থা। দুদিক থেকে থাকবে ফেরি। একটি স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে। এতে সাময়িক অসুবিধা হবে। তবে সংস্কারকাজ হয়ে গেলে সেই কষ্ট আর থাকবে না।

নতুন সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন সেতুর সম্পূর্ণ নকশা ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। নতুন রেলপথ দিয়ে ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পর্যটন শহরে পৌঁছে যাবেন। আশা করছি, ২০২৮ সালে নতুন সেতু নির্মাণ হলে দুর্ভোগ দূর হয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। এ সময় সড়ক ও জনপথের সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দীন খালেদ চৌধুরী বলেন, কালুরঘাট এলাকায় ইতিমধ্যে তিনটি ফেরি নিয়ে আসা হয়েছে। টোল নির্ধারণসহ অপারেটর ও ইজারাদার নিয়োগের পর ফেরি চালু করা সম্ভব হবে। চালু হলে দুদিকে ফেরি থাকবে। এছাড়া শাহ আমানত সেতু দিয়ে মইজ্জারটেক এলাকা হয়ে কালারপুল দিয়ে আমরা একটি বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করছি।

পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞা বুয়েটের বরাত দিয়ে বলেন, কালুরঘাট রেল সেতুর অবস্থা এত খারাপ যে, সংস্কার ছাড়া কক্সবাজার পর্যন্ত ভারী ইঞ্জিনের ট্রেন নেওয়া সম্ভব নয়। কালুরঘাট সেতুর ১৬ নম্বর স্প্যান থেকে ২২ নম্বর স্প্যানের অবস্থা খুবই খারাপ। ওখানে মরিচা ধরেছে। বর্তমানে এই সেতুতে ট্রেনের গতি ১০ কিলোমিটার। সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হচ্ছে। ২০ জুন সংস্কার কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেপ্টেম্বরে মূল সংস্কারকাজ শেষ হবে।

সেতু সংস্কারের কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম জুনের আগে শেষ করে আমরা ২০ জুন থেকে কাজ শুরু করব। প্রথমে ম্যাটারিয়ালস মোবিলাইজেশন,  প্লেট সংস্কার ও বিটুমিন ঢালাই কাজ হবে। এ কাজ এক মাস চলবে। তবে প্লেট সংযোজন বা সংস্কারের কাজে আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এরমধ্যে অর্থাৎ জুলাই থেকে রেল ট্রাফিক লিংকিংয়ের কাজ শুরু হবে। এ কাজটি সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত