ডায়াবেটিস রোগীদের হজ পালনের প্রস্তুতি

আপডেট : ২০ মে ২০২৩, ১১:৪৭ পিএম

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে পঞ্চম স্তম্ভ হলো হজ, যা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য অবশ্য পালনীয়। বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়, হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালনে কায়িক পরিশ্রম ও পরিবেশগত কারণে নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

সারা বিশে^ প্রায় ১৫ কোটি মুসলমান ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে অনেকেই হজ পালন করতে যান। অন্যান্য মানুষের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কিছুটা বেশি। এর সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির জটিলতা, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা, হাঁপানিসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে তা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই হজযাত্রার প্রাক্কালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণপূর্বক একজন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

হজে যাওয়ার কমপক্ষে দশ দিন আগে মেনিনজাইটিস টিকা ও ফ্লু ভ্যাকসিন নিতে হবে। আপনার ওষুধের ব্যবস্থাপত্র কাছে রাখুন। ডায়াবেটিস রোগীরা যথেষ্ট পরিমাণ ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ, নির্দেশিত ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হাঁপানি বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ নিতে হবে। ইনসুলিন ব্যবহারকারীরা এ সময় চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহার উপযোগী ইনসুলিন পেন ডিভাইস নিতে পারেন। প্রয়োজনে ইনসুলিনের বা ওষুধের ধরন ও মাত্রা পরিবর্তন হতে পারে। অবশ্যই নিয়মিতভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ধারণের জন্য গ্লুকোমিটার সঙ্গে নেবেন। এ সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়া, ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস বা হাইপার অসমোলার কোমার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে ব্যস্ততার কারণে কোনো অবস্থাতেই ইনসুলিন বা প্রয়োজনীয় ওষুধ বাদ দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ছোট্ট একটি ব্যাগে এগুলো রাখতে হবে। সঙ্গে খেজুর, হালকা স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার ও পানিস্বল্পতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি রাখতে হবে। যথাসময়ে খাবার গ্রহণের চেষ্টা করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত