মরা গাছের অনুমতি নিয়ে কাটা হলো ৯ রেইনট্রি

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৩, ০৮:০৮ পিএম

মরা ও শুকনো গাছ কাটার অনুমতি নিয়ে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের দুই পাশে থাকা বড় ও মাঝারি আকারের নয়টি রেইনট্রি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বন কর্মকর্তাদের দিয়ে মূল্য নির্ধারণ না করেই পানির দরে বিক্রি হয়েছে সেসব গাছ। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে কেটে ফেলা গাছের টুকরা জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশকে খবর দিয়েছেন ঈশ্বরদীর বন কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন।

সড়ক ও জনপথ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, আরবরি কালচারাল রাজশাহীর এসডিই গোবিন্দ গেইন ও ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ বলেন, মহাসড়কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মরা ও শুকনো গাছ কাটার নামে তাজা ও সতেজ গাছ কাটার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ।

সড়ক ও জনপথ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ও আরবরি কালচারাল রাজশাহীর এসডিই কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের দুই পাশে বড় ও মাঝারি আকারের অর্ধশতাধিক শুকনা গাছের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জরিপ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে বড় ও মাঝারি আকারের ৫৯টি গাছ কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

এতে কুষ্টিয়ার মেসার্স বকুল এন্টারপ্রাইজ লি. সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৭১ হাজার টাকা দর প্রদানের মাধ্যমে কাজের অনুমতি পায়। ঠিকাদারের লোকজন গত সোমবার থেকে চিহ্নিত করে দেওয়া মরা ও শুকনো গাছগুলো কাটা শুরু করে।

স্থানীয়রা জানান, সাত-আটজনের একটি দল সোমবার সকাল থেকে মহাসড়কের মরা ও শুকনো গাছগুলোর পাশাপাশি কিছু তাজা ও সতেজ গাছও কাটতে শুরু করে। বিষয়টি মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা বন কর্মকর্তাকে জানানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে এসে তাজা ও সতেজ কাটা বন্ধ করে দেন। একই সঙ্গে কেটে ফেলা তাজা ও সতেজ গাছের টুকরোগুলো জব্দ করে স্থানীয় একটি স’ মিলে রাখেন।

গাছ কাটার সর্দার কুষ্টিয়ার জাহারুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারের লোকজন আমাদের যে গাছগুলো কাটতে বলছেন আমরা সেই গাছগুলো কাটছি।

ঠিকাদার বকুল এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধানকারী লিটন জানান, স্থানীয় কিছু লোকজনের অনুরোধে তাদের বাড়িতে প্রবেশে সমস্যা হওয়ায় ও বিদ্যুতের তারের ওপর পড়া তিনটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এটা আমাদের ভুল হয়েছে। পুলিশ এসে কেটে ফেলা গাছের টুকরোগুলো জব্দ করে স্থানীয় স’ মিলের জিম্মায় রেখেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, গাছগুলো পানির দরে আরবরি কালচারাল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে বিক্রি করেছে। গাছগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই বড় ও মাঝারি আকারের ৫৯টি গাছ মাত্র ৭১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। অথচ গাছগুলোর কমপক্ষে বাজার মূল্য হবে প্রায় তিন-চার লাখ টাকা। তাজা ও সতেজ গাছ কাটার খবর পেয়ে কেটে ফেলা গাছের টুকরোগুলো জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

সওজ, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ জানান, ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের মরা ও শুকনো গাছগুলো রাজশাহী আরবরি কালচারাল থেকে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করেছে। তবে ঠিকাদারের লোকজন মরা ও শুকনো গাছের পরিবর্তে তাজা গাছ কেটেছে বলে শুনেছি। এটা খুবই দুঃখজনক।

রাজশাহী আরবরি কালচারালের এসডিই গোবিন্দ গেইন বলেন, দরপত্রের মাধ্যমে শুকনো ও মরা গাছ কাটার ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তাজা গাছ কাটার বিষয়টি দুঃখজনক। এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ জানান, মহাসড়কের মরা ও শুকনা গাছের পরিবর্তে তাজা ও সতেজ গাছ কেটে ফেলার খবরটি শুনেছি। বিষয়টিতে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গাছ কাটার ঠিকাদার কুষ্টিয়ার বকুল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বকুল বলেন, আমার লোকজনকে মরা ও শুকনো গাছ কাটতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা কেন তাজা ও সতেজ গাছ কেটেছে তা আমার জানা নেই। তাজা গাছ কাটার বিষয়টি দুঃখজনক। তবে আর যেন তাজা গাছ কাটা না হয়ে সেদিকে অবশ্যই নজর রাখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত