ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হবে, এটা আগে থেকেই অনুমিত ছিল। ভোটের সকালে কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেল, ভোটারের তুলনায় কেন্দ্রগুলোতে সাংবাদিকের উপস্থিতি বেশি।
গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে গঠিত রাজধানীর এই আসনে ভোটার আছে সোয়া তিন লাখ। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১২৪টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
গুলশান-২ এর গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটার আছেন ৩১২৯ জন। সকাল ১০টা ২০ পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৯ জন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি একজন দুজন করে বাড়তে দেখা যায়। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. লতিফ সরকার বললেন, আমার জানামতে ২-৩টা ভোট পড়ছে এখন পর্যন্ত। ১২টার পর হয়তো বাড়বে। ঢাকার মানুষজন তো সকাল ১০টার আগে ঘুম থেকেই ওঠে না। সে জন্যই হয়তো কম।
ভোটার তেমন না থাকলেও উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ করা গেল বনানী মডেল স্কুল কেন্দ্রে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম সকাল ১০টার দিকে ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময় ভোটারদের লাইন চোখে না পড়লেও স্কুল মাঠে কিছু লোকের উপস্থিতি দেখা যায়। আর ছিলেন জনাচল্লিশেক গণমাধ্যমকর্মী।
ক্যান্টনমেন্টের আরেক কেন্দ্র ব্লু বার্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজেরও একই চিত্র। বাজার এলাকা হওয়ায় এখানে ভোটারের চেয়ে বহিরাগত মানুষ এবং সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি।
টি অ্যান্ড টি মহিলা কলেজের একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ওবায়দুল হক ভূঁইয়া জানালেন, তার কেন্দ্রে ৩ হাজার ১৪টি ভোট রয়েছে। প্রথম দেড় ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩৩টি। বাইরে লম্বা লাইন, কিন্তু ভোটকেন্দ্র ফাঁকা থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আছি, ভোটাররা ভেতরে এলেই ভোট দিতে পারছেন। বাইরে লাইনে থাকলেও ভেতরে আসছে না কেন, আমি জানি না। আরও সময় গেলে হয়তো আসবে।
উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিলেও বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই নেই। ফলে সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই ভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন সাড়াও চোখে পড়েনি। ফলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচন থেকে এই উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে বলে আগে থেকেই ধারণা করছিলেন সংশ্লিষ্টরা।