অপ্রীতিকর কাণ্ডে নিষিদ্ধ হারমানপ্রিত

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ১২:৪৮ এএম

শাস্তি পেতেই হলো হারমানপ্রিত কৌরকে। আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের দুটি ধারা ভঙ্গ করায় তাকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেটের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। পাশাপাশি ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে তাকে এর সঙ্গে নামের পাশে যোগ হচ্ছে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট। বাংলাদেশের বিপক্ষে নারী ওয়ানডে সুপার লিগের তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছিলেন হারমানপ্রিত। এমন কা- ঘটানো এক ক্রিকেটারের শাস্তিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের চেয়ারম্যান শফিউল আলম নাদেল। জানিয়েছেন, জ্যোতি-পিংকি-নাহিদরা এমন কাজ কখনই করবে না।

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারের বলে স্লিপে ক্যাচ আউট হন হারমানপ্রিত। তবে ওই আউট নিয়ে একটু ধোঁয়াশা ছিল যে তা এলবিডব্লিউ না ক্যাচ। যেটাই হোক দুই ক্ষেত্রেই আউট ছিলেন ভারত অধিনায়ক। কিন্তু ব্যাটে টাচ হয়েছে তাই এলবিডব্লিউ হননি বলে আম্পায়ার তানভীর আহমেদের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। রাগে ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করে তা ভেঙে ফেলেন। পাশাপাশি ম্যাচ শেষে প্রেজেন্টেশনে প্রকাশ্যে আম্পায়ারিং নিয়ে কটাক্ষ করেন। এসব কারণেই শাস্তি পেতে হয়েছে হারমানপ্রিতকে।

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করায় আইসিসির ২.৮ ধারা ভঙ্গ করেছেন, যা আইসিসি ডিসিপ্লিনারিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের অপরাধ। এর জন্য ম্যাচ ফির ৫০ ভাগ ও তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট খুইয়েছেন। আর প্রকাশ্যে কোনো ক্রিকেটীয় ঘটনার সমালোচনা করায় ২.৭ ধারা ভঙ্গ করে ম্যাচ ফির আরও ২৫ ভাগ এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হজম করেছেন। চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে এক টেস্ট অথবা দুটি করে টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে নিষিদ্ধ হতে হয়। সামনে ভারতের ওয়ানডে খেলা আছে বলে হারমানপ্রিত সেটাই মিস করবেন। ভারত হারমানপ্রিতের নেতৃত্বে সেপ্টেম্বরে এশিয়াডে খেলার কথা ছিল। প্রথম দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকবেন সেখানে হারমানপ্রিত।

হারমানপ্রিতের এমন আচরণ পুরো ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। অনেকেই তার আচরণ অগ্রহণযোগ্য বলেছিলেন।

ভারত অধিনায়কের শাস্তির প্রক্রিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নারী বিভাগের প্রধান নাদেল। দেশ রূপান্তরকে এই শাস্তিকে যৌক্তিক বললেন তিনি, ‘এটা সম্পূর্ণ সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে। যে দেশেই খেলা হোক ম্যাচে কোনো ঘটনা ঘটলে ম্যাচ রেফারি তা যথাযথ প্রমাণ রেখে আইন মতো আইসিসির কাছে পাঠান। আমাদের ম্যাচ রেফারিও সে প্রক্রিয়া মেনে আইসিসিতে ওই ঘটনার সমস্ত উপাত্ত পাঠান। তা দেখে আইসিসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথোপযুক্ত। খেলায় হারজিত থাকবেই এরজন্য কোনো ঘটনায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়।’

হারমানপ্রিতের ব্যাটের আঘাতে স্টাম্প উড়ে পেছনে অনেকটা দূর চলে যাচ্ছিল। ওই সময় বাংলাদেশের কোনো একজন ফিল্ডার দলের বাকিদের কাছে যাচ্ছিলেন। কিন্তু স্টাম্প গিয়ে আঘাত করে তার পায়ে। এই সময়ে স্টাম্পটি গায়ের অন্য কোথাও বা মাথায় লাগলে মারাত্মক ইনজুরির সম্ভাবনা ছিল ওই ক্রিকেটারের। নাদেল জানান এমন কা- কখনই না করার ব্যাপারে জ্যোতি সবসময় পরামর্শ দেন, ‘মেয়েরা যখন বাইরে খেলতে যায় আমরা বলেই দিই তোমরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছ। এখানে হার হোক বা  জয় ফল যেটাই হোক তা একপাশে কিন্তু এমন কিছু মাঠে বা মাঠের বাইরে যেন না হয় যার থেকে দলের বা দেশের দুর্নাম হবে। আমাদের মেয়েরা এটা সবসময় মনে রাখে। ওরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। সবাই এটা দেখে যে বিভিন্নভাবে বিপরীত সিদ্ধান্তের শিকার হলেও ওরা কোনো বাজে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। আমাদের বিশ্বাস আছে আমাদের মেয়েরা কখনই এমন বাজে আচরণ করবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত