রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে সাভারের বিএনপি ও যুবদলের চার নেতাকর্মীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর থেকে ১৬ ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে গতকাল রবিবার দুপুরে তাদের সাভারের ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা।
এর আগে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর আদাবর এলাকায় অবস্থিত সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলামের বাসা থেকে তাদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়।
সাভার থানা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, ‘শনিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানী শ্যামলীর আদাবর এলাকা থেকে আমার ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম, সুরুজ্জামান মোমিনুল ইসলামকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। সারা রাত তাদের বিভিন্ন স্থানে ঘুরাইছে, আমরা তাদের খোঁজে পাইনি। দুপুর ১২টার দিকে জানতে পারি তাদের সাভার ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, মোমিনুল ইসলাম সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, শহিদুল ইসলাম সাভার থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে ঢাকা জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং সুরুজ্জামান সাভার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক। এ ছাড়া গত ১ তারিখে শহিদুল ইসলামের গাড়িচালক সুজনকে তার কলমার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি পুলিশ। তাকে পুলিশ ছাড়েও না এমনকি আদালতে চালানও করে না। মাঝখানে ৪ তারিখে তাকে আশুলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও রবিবার আবার ডিবি অফিসে আনা হয়েছে।
পুলিশ আমাদের বাসায় গিয়ে ভাড়াটিয়াদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ থানায় যোগাযোগ করতে বলেছে। প্রায় প্রতিটি নেতাকর্মীর বাসায় পুলিশ গিয়ে তাদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছেন। বর্তমানে আমরা বাড়িঘর ছেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
বিএনপি নেতাকর্মীদের তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা কোনো বিএনপি নেতাকর্মীকে তুলে আনিনি। ঢাকা থেকে যেহেতু তুলে নেওয়ার অভিযোগ, তাহলে ডিএমপি ডিবি হতে পারে।’
সাভার মডেল থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
