অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা হচ্ছে খাদ্যাভ্যাসজনিত এক প্রকার মানসিক রোগ। যে রোগের মূল কারণ রোগীর অস্বাভাবিক চিন্তাভাবনা। তার মধ্যে এমন একটি চিন্তাভাবনার জগৎ তৈরি হয় যে, সে মনে করতে থাকে খাবার খেলেই তার ওজন বেড়ে যাবে এবং তাকে দেখতে বাজে দেখাবে। সেই সঙ্গে মনে করে সে সামাজিকভাবে অন্যদের দ্বারা হেয়প্রতিপন্ন হবে। এ রকম চিন্তাভাবনার কারণে যদি কারও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে এবং সে যদি দৈনিক যে পরিমাণ ক্যালরি নেওয়া দরকার সেটা থেকে বিরত থাকে কিংবা উপবাস থাকা শুরু করে তখন এই অবস্থাকে অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা বলা হয়ে থাকে।
কারণ : অ্যানোরেক্সিয়ার বায়োলজিক্যাল কিছু কারণ রয়েছে। যেমন : কারও জেনেটিক সমস্যা থাকতে পারে। যার কারণে তার ক্ষিধে লাগবে না এবং সে খাবার এড়িয়ে চলবে। অনেকের নিজেকে চিকন রাখার প্রবণতা থাকে, সে খাবার কম খায়। এর ফলে অ্যানোরেক্সিয়া হতে পারে। কেউ কেউ অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার বা ওসিডির কারণে কিংবা কোনো হতাশা বা বিষাদগ্রস্ততার কারণে খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। সে নিজেকে স্বাস্থ্যবান মনে করে এই চিন্তা থেকে সে খায় না। আস্তে আস্তে অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসাতে রূপ নেয়।
কেউ কেউ ওভার ওয়েট বা ওবেসিটি ডেভেলপ করার কারণে ওজন কমাতে চায়। তখন ওজন কমাতে গিয়ে সে মানসিকভাবে স্থির করল যে, সে খাবার কম খাবে এবং কম খেতে খেতে এক সময় তার আর ক্ষিদে লাগে না, সে খাবার খায় না। এক সময় জীবন বিনাশী অবস্থায় রূপ নেয়। এই অবস্থাকেই বলা হয়ে থাকে অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা।
লক্ষণ : অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া এবং তাদের দেখলে ভীষণ রোগাক্রান্ত মনে হয়। খাবার গ্রহণ না করার কারণে তাদের সারাক্ষণ মাথা ঘোরা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগা। অকারণে শীত শীত অনুভব করা। চুল পড়ে যায়। শরীরের চামড়া শুকিয়ে যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত ঋতুচক্র বা বন্ধ হয়ে যায়। আচরণগত পরিবর্তনের মধ্যে ওজন বেড়ে যাওয়া এবং খাদ্যে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ নিয়ে দুশ্চিন্তা। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
চিকিৎসা : মেডিসিন এবং সাইকিয়াট্রিস্ট চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা করানো দরকার হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট কিংবা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হতে পারে। চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রথমেই যা করতে হয় তা হচ্ছে রোগীর নিউট্রিশন ঠিক করা, মুখে না খেলে শিরাপথে সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ক্যালরি সাপ্লাই দেওয়া হতে পারে।
পর্যায়ক্রমে তাদের খাবারের জন্য কাউন্সেলিং করা। যাতে তাদের খাদ্যাভ্যাস ফিরে আসে যেহেতু অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা একটি খাদ্যাভ্যাসজনিত জটিল মানসিক রোগ। অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা, হার্টে মাইটাল ভাল্ব প্রলাপ্স হতে পারে, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, কিডনির জটিলতাসহ নানাবিধ হরমোনাল সমস্যা হতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসা করা অপরিহার্য।
