পাপিয়াকান্ডে কারাগারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার বদলি

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৩, ০১:০০ এএম

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযুক্ত সবাইকে বদলি করা হয়েছে। গত বুধবার জেলার ফারহানা আক্তারকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে এবং মেট্রন ফাতেমা আক্তারকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলি করা হয়। এ নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে বদলি করা হলো। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর জেল সুপার ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার মো. শাহজাহান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বুধবার অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মেট্রন ফাতেমা আক্তারকে বদলি এবং তার স্থলে মোছা. লুৎফুন্নেছাকে দায়িত্ব দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। লুৎফুন্নেছা এর আগে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ এর দায়িত্বে ছিলেন। একই দিনে জেলার ফারহানা আক্তারকে বদলি করা হয় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে। এর আগে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ওবায়দুর রহমানকে রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্ব অবহেলার কারণে গত ৩০ জুলাই কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ছয় কারারক্ষীকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বদলি করা হয়। গত ৩০ জুলাই পাঠানো একটি আদেশে একযোগে ছয় কারারক্ষীকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। এদের মধ্যে কারারক্ষী আলেয়া চৌধুরীকে লক্ষ্মীপুর, শাম্মী আক্তারকে সুনামগঞ্জ, মোছা. সোহেলা আক্তারকে ঝালকাঠি, সেলিনা আক্তারকে শেরপুর, ঝর্ণা আক্তারকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও লাকী আক্তারকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের তাৎক্ষণিক কর্মমুক্তির (স্ট্যান্ড রিলিজ) আদেশে কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান। গত ৩ আগস্ট কারাগারের সুপার ওবায়দুর রহমানকেও বদলি করা হয়।

ঢাকায় আদালতে নথি চুরির অভিযোগে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে নির্যাতন করা হয়। গত ২৫ জুন ওই নারী আইনজীবীর ভাই গাজীপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করে তার বোনকে নির্যাতনের ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ অভিযোগের মাধ্যমে শামীমা নূরের নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ওই ঘটনার পর পাপিয়াকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মহিলা কারাগারের মেট্রন ফাতেমাকে প্রত্যাহার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের একাধিক সূত্র জানায়, যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে গ্রেপ্তারের পর গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে রাখা হয়। তিনি অপরাধ কার্যক্রম শুরু করেন কারাগারের ভেতরেও, গড়ে তোলেন অনুগত বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে বন্দী ও অন্য নারীদের কাছ থেকে তিনি টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতেন। তাদের ওপর চালাতেন নির্যাতন। কয়েক কারারক্ষী ও নারী বন্দী তার এ সব কাজে সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কারাগার সূত্র আরও জানায়, ওই কারাগারের জেলার ফারহানা আক্তার ও মেট্রন ফাতেমা আক্তারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় বন্দী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকাসহ নানা অনিয়ম হয়। এক বন্দীর ভাই লিখিতভাবে তাদের দুজনের বিরুদ্ধে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন। এসব বিষয়গুলো ‘পাপিয়া-কাণ্ডের’ পরই জানাজানি হয়। ফারহানা আক্তার দায়িত্ব পালনকালে পাপিয়াকে নানাভাবে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত