সৌদি আরবের ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ৪৩তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। মক্কায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় দুই বাংলাদেশি হাফেজ শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিচারক প্যানেলে ছিলেন বাংলাদেশি আলেম হাফেজ মাওলানা ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি হাফেজদের সাফল্য ঈর্ষণীয় হলেও এতে বাংলাদেশি আলেমের বিচারক হওয়ার ঘটনা বিরল। জোড়া এ সাফল্য এক অভাবনীয় ঘটনা। আন্তর্জাতিক এ কোরআন প্রতিযোগিতার নানা দিক নিয়ে লিখেছেন মুফতি এনায়েতুল্লাহ
ফের পবিত্র কোরআনের আলোতে বিদেশের মাটিতে দেশের নাম আলোকিত করল বাংলাদেশি দুই হাফেজ। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৩তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অভূতপূর্ব কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে তারা। প্রতিযোগিতায় তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ গ্রুপে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে হাফেজ ফয়সাল আহমদ। পুরস্কার হিসেবে সে পেয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার সৌদি রিয়াল, সম্মাননা সনদ ও পদক।
প্রতিযোগিতার চতুর্থ বিভাগ তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে ২০ পারা হিফজ গ্রুপে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে হাফেজ মো. মুশফিকুর রহমান। পুরস্কার হিসেবে সে পেয়েছে এক লাখ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল, সম্মাননা সনদ ও পদক।
গত বুধবার রাতে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় মসজিদে হারামের নতুন সম্প্রসারিত অংশে। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে পুরস্কারের অর্থ ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন মক্কা মোকাররমার গভর্নর শায়খ বদর বিন সুলতান বিন আবদুল আজিজ ও সৌদি আরবের ধর্মমন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ।
সবচেয়ে বড় কোরআন প্রতিযোগিতা
গত ২৫ আগস্ট সৌদি আরবের ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মক্কায় ৪৩তম আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে বিশ্বের ১১৭টি দেশ থেকে

১৬৬ প্রতিযোগী তাতে অংশ নেয়। পুরস্কার মূল্য এবং অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বিবেচনায় এই প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা। পাঁচ বিভাগে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সর্বমোট ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মসজিদে হারাম পরিচালনা পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও কাবার প্রধান খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস, কাবার ইমাম শায়খ সালেহ আল হুমাইদ, শায়খ মাহের আল মুয়াইকিলি, শায়খ ইয়াসির আদ দাওসারি, সৌদি আরবের মসজিদ বিষয়ক সচিব শায়খ সুলাইমান বিন ফাহাদ, বিচারক কমিটির চেয়ারম্যান ও কিং সালমান বিন আবদুল আজিজ প্রাসাদের খতিব শায়খ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আশ শিছরি, প্রতিযোগিতার বিচারক মুহাম্মদ বিন আহমদ আল বারহাজি, প্রতিযোগিতার বিচারক বাংলাদেশের মাওলানা ওয়ালীয়ুর রহমান খান, শায়খ মুহাম্মদ বিন আতীক ও শায়খ আবু বকর বিন মুআল্লিমসহ উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের দুই প্রতিনিধি
হাফেজ ফয়সাল আহমাদ রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হলেন হাফেজ নেছার আহমাদ আন নাছিরী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সন্তান হাফেজ ফয়সাল চলতি বছরের মার্চ মাসে লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। আর হাফেজ মুশফিকুর রহমান কক্সবাজারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাহাদ আন নিবরাসের ছাত্র।
সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলো হলো- ১. শাতেবি পদ্ধতিতে সাত কিরাতসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ, ২. তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ এবং একক শব্দগুলোর তাফসির, ৩. তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ, ৪. তাজবিদসহ ২০ পারা হিফজ, ৫. তাজবিদসহ পাঁচ পারা হিফজ (শেষোক্ত বিভাগটি ওআইসিভুক্ত নয় এমন দেশের জন্য প্রযোজ্য)।
গত বছর (২০২২) এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরীম অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। বিজয়ী হিসেবে তিনি এক লাখ রিয়াল (প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা) পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট লাভ

করেন। এর আগে এই প্রতিযোগিতায় ২০১৯ সালে ১০৩ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে দ্বিতীয় হন বাংলাদেশের খুদে হাফেজ মুহাম্মদ শিহাব উল্লাহ। একই প্রতিযোগিতায় ২০১৩ সালে ৭০টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ নাজমুস সাকিব। ২০১৭ সালে ৭৩টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ আবদুল্লাহ আল মামুন।
প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস
কোরআন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করায় সৌদি আরবের মক্কায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসেন মসজিদে হারাম প্রাঙ্গণে। এ সময় ফুল দিয়ে তাদের সম্মান জানানো হয়। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জনকারী হাফেজ ফয়সাল আহমদের সঙ্গে থাকা তার উস্তাদ মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ গড়ার কারিগর শায়খ নেসার আহমদ আন নাছিরী বলেন, ‘এটা বড় আনন্দের খবর। এর থেকে সুখকর সংবাদ আর কী হতে পারে? বাংলাদেশের একজন হাফেজ ১১৭টি দেশকে পেছনে ফেলে ৩য় স্থান লাভ করেছে। পুরস্কারের আর্থিক মূল্যও কিন্তু কম নয়। প্রতি বছর অসংখ্য হাফেজ বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে তুলে ধরছে বিশ্ব দরবারে। আমাদের সন্তানরা দেশের মান উজ্জ্বল করে চলছে। এটা অনেক বড় পাওনা।’
শায়খ নেছার আহমদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বারবার দেশের মানকে উজ্জ্বল করে চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতায় তারা অংশগ্রহণ করে সফলতার স্বাক্ষর রাখছে। আমরা চাই দেশে হাফেজদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হোক।’
হাফেজ নাছিরী বলেন, বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা পবিত্র কোরআনের হিফজ প্রতিযোগিতায় সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। এ জন্য তাদের সম্মানিত শিক্ষক, মাতাপিতা, অভিভাবকদের যথেষ্ট কষ্ট স্বীকার ও ত্যাগ করতে হয়। হাজার হাজার হাফেজে কোরআনের মধ্য থেকে সর্বোত্তম ও উপযুক্ত হাফেজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ইতিমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশ কোরআন চর্চা করে আজ প্রায় চল্লিশ বছর যাবৎ বিশ্বজয়ের এই গৌরব ধরে রেখেছে- আলহামদুলিল্লাহ!
বিচারক প্যানেলে বাংলাদেশি আলেম
আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি আলেম দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান এ দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিযোগিতার বিচারকার্য যথাযথ পালন করায় অনুষ্ঠানে তাকেও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য ঈর্ষণীয় হলেও এসব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি আলেমদের বিচারক নিযুক্ত হওয়ার ঘটনা বিরল।
এ প্রসঙ্গে ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় আমাকে বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়, এটি আমার এবং বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই একটি সম্মানের বিষয়। আশা করি, আগামীতে বাংলাদেশিদের এভাবে মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে।
বিগত ১৮ বছর যাবৎ ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন হেফজ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ওআইসি যুব

কেরাত প্রতিযোগিতার বিভিন্ন অধিবেশনে এবং জাতীয় শিশু কিশোর কোরআন প্রতিযোগিতায় তিনি বিচারক হিসেবে সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি মিসর, জর্দান, আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
পুরস্কার পেল যেসব দেশ
বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন ও তাফসির প্রতিযোগিতা পাঁচ ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরি থেকে পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
প্রথম বিভাগ শাতেবি পদ্ধতিতে সাত কিরাতসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ ক্যাটাগরিতে সৌদি আরবের আইয়ুব বিন আবদুল আজিজ আল ওয়াহিবি প্রথম স্থান অর্জন করে পাঁচ লাখ রিয়াল পুরস্কার পেয়েছেন। আলজেরিয়ার সাদ বিন

সাদি সালিম ৪ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে এসেছেন, আর চাদের আবু আল হাসান ৪ লাখ পুরস্কার পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
দ্বিতীয় বিভাগ তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ এবং একক শব্দগুলোর তাফসির ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার জিতেছেন সৌদি আরবের আম্মার বিন সালেম আল শাহরি। তিনি পেয়েছেন ৩ লাখ রিয়াল। বাহরাইনের মোহাম্মদ বিন আদনান আল ওমারি ২ লাখ ৭৫ হাজার পুরস্কার পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন সিরিয়ার আব্দুল আজিজ বিন মালিক আতলি। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল।
তৃতীয় বিভাগ তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে পূর্ণ কোরআন হিফজ ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছেন সোমালিয়ার মোহাম্মদ বিন ইব্রাহিম মোহাম্মদ। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ রিয়াল। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন সুইডেনের শুয়াইব বিন মোহাম্মদ হাসান। তিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার রিয়াল। বাংলাদেশের হাফেজ ফয়সাল আহমেদ তৃতীয় স্থান অর্জন করে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার রিয়াল। ইন্দোনেশিয়ার মোহাম্মদ মুফিদ আল আজ্জা চতুর্থ স্থান এবং লিবিয়ার সিরাজ আল দিন মুয়াম্মার কান্দি শীর্ষ পাঁচে স্থান করে নিয়েছেন।
চতুর্থ বিভাগ তাজবিদসহ সুন্দর কণ্ঠে ২০ পারা হিফজ ক্যাটাগরিতে সেনেগালের মোহাম্মদ ঘাই শীর্ষস্থান অধিকার করে পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার রিয়াল। লিবিয়ার হাতেম আব্দুল হামিদ ফালাহ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার রিয়াল। উগান্ডার ইয়াসিন আবদুর রহমান তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের মুশফিকুর রহমান চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন সোমালিয়ার আবদুল কাদের ইউসুফ মোহাম্মদ।
পঞ্চম বিভাগ ওআইসিভুক্ত নয় এমন দেশের প্রতিযোগীদের নিয়ে তাজবিদসহ পাঁচ পারা হিফজ ক্যাটাগরিতে আইসল্যান্ডের ইলিয়াস আবদু প্রথম স্থান অর্জন করে ৬৫ লাখ রিয়াল লাভ করেছেন। দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছেন ভারতের ইব্রাহিম শাহ। তিনি ৬০ হাজার রিয়াল পুরস্কার পেয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের মারওয়ান বিন শালাল তৃতীয়, এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুস্তাফা সিন্নানোভিচ চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন। সর্বশেষ উত্তর মেসিডোনিয়ার হাসিব আমরুল্লাহ ৪৫ হাজার রিয়াল জিতে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন।
