জনসমাগমস্থল থেকে মোবাইল চুরি করত ওরা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:৫৪ এএম

জানাজা ও জুমার নামাজকে কেন্দ্রকে মোবাইল চুরি চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। বুধবার রাতে রাজধানীর চানখাঁরপুল, জুরাইন বিক্রমপুর প্লাজা, জুরাইন বুড়িগঙ্গা সেতু মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্কসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. বাহাউদ্দিন হোসেন মিজি ওরফে বাহার, রমজান আলী, হামিম আহমেদ ওরফে হামিম, আতিকুল ইসলাম, পারভেজ হাসান, মাসুদুর রহমান ওরফে মাসুদ, সাইফুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ রনি ও মিল্লাত হোসেন।

এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি ল্যাপটপ, একটি মনিটর, একটি রেডমি নোট-১২ প্রোসহ সাতটি মোবাইল, কম্পিউটার ও ল্যাপটপসামগ্রী ও মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত ১৬টি ডিভাইস জব্দ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় এটিইউর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এটিইউর পুলিশ সুপার (অপারেশন) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ধৃতরা ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিল এবং মানুষের জানাজাসহ জনসমাগমস্থল থেকে মোবাইল ফোন চুরি করে। এরপর চোরাই মোবাইল সেটের আইএমইআই পরিবর্তন করে কেনাবেচা করে থাকে। চক্রটির সদস্যরা অনলাইনের সাহায্যে খোঁজতে থাকে ঢাকা ও এর আশপাশে কোনো জানাজা আছে কি না। কোনো জানাজার সন্ধান পাওয়ার পর তারা খোঁজখবর নিতে থাকে সেখানে কেমন মানুষের সমাগম হতে পারে। এই কাজের কোড নাম দেয় ‘বডিকাজ’। ‘বডিকাজ’ বলতে তারা বোঝায় লাশের কাজ, মানে জানাজার কাজ।

জানাজার স্থান নির্ধারণ হওয়ার পর তারা সেখানে পাজামা, পাঞ্জাবি ও টুপি পরে যায়। সেখানে গিয়ে তারা গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রত্যেকটি গ্রুপে তিনজন করে সদস্য থাকে। তিনি বলেন, গ্রুপের সদস্যরা জানাজার ভিড়ের মধ্যে কৌশলে একজনের পকেট থেকে মোবাইল চুরি করে দ্বিতীয় সদস্যকে দেয়। পকেট থেকে মোবাইলটি যে চুরি করে নিয়ে আসে তাকে বলা হয় মহাজন। জানাজা ছাড়াও চক্রটির টার্গেটে থাকত শুক্রবারের জুমার নামাজ। মসজিদের এই চুরিকে তারা ‘মসজিদ কাম’ বলে থাকে।

গ্রেপ্তার মাসুদের কাজ হচ্ছে চোরাই মোবাইলগুলো নির্দিষ্ট দোকানে পৌঁছে দেওয়া। তদন্তে এমন তিনটি দোকানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। দোকানগুলো হলো, জুরাইনের বিক্রমপুর প্লাজার এসআই টেলিকম, যার মালিক ধৃত সাইফুল, জুরাইনের সেতু মার্কেটের ফয়সাল টেলিকম, যার মালিক ফয়সাল ও যমুনা ফিউচার পার্কের চতুর্থতলার একটি দোকান, যার মালিক মিল্লাত। দোকানগুলোতে চলত টেকনিক্যাল ও মোবাইল বিক্রির কাজ। প্রথমে মোবাইলগুলোর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হতো। তারপর মোবাইলগুলোর প্যাটার্ন লক খোলা হতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত