রাজধানীসহ সারা দেশে ছাত্রশিবিরসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে গণগ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ শরিবার (৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠা মুক্তিকামী জনতাকে দমন করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সারা দেশে গণগ্রেপ্তার ও নির্যাতন চালাচ্ছে।’
তারা আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে অবৈধ সরকার চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। যা গত ২৭ অক্টোবর থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রশিবিরের ৩২ জন নেতাকর্মীসহ বিগত ৭ দিনে সারা দেশে মোট ১৪৫ জন নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের। পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে জামায়াত-শিবির ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ধরপাকড় চালাচ্ছে সরকার।
সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়া গ্রেপ্তার করে সরকার বাকশালী রূপ প্রকাশ করছে জানিয়ে তারা বলেন, নির্বিচারে মেধাবী ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে শিক্ষাজীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষও এই গণগ্রেপ্তার ও হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সরকার যে জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা তাদের আচরণে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার নামে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গ্রেপ্তারের পরপরই আইনের তোয়াক্কা না করে নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গণগ্রেপ্তার ও গণহয়রানি বন্ধ করে অবিলম্বে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, ছাত্রশিবিরের গ্রেপ্তারকৃত সকল নেতাকর্মীসহ বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
